| বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৮৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
হালকা শীত শীত ভাব। বাসায় নিজের রুমে বসে আছি। খোলা জানালা দিয়ে শীত আসি আসি হালকা বাতাস। কাছের মানুষদের সাথে খুনসুটি কথাবার্তা সেরে টেবিলে ল্যাম্প জ্বালিয়ে বসেছি। পড়ালেখার সূত্রে এখন আর নিয়মিত বাসায় থাকা হয় না।
প্রকৃতি যে শূন্যস্থান রাখে না, আমার এই টেবিল তার উদাহরণ। আমার শূন্যতায় তাকে অধিকার করেছে আমার ছোটবোন। আমার একাডেমিক বই, শখের কবিতার বই আর আনমনে লিখালিখি করা কাগজের টুকরোর জায়গা দখল করে নিয়েছে বোনের বইখাতা, খুঁটিনাটি খেলনা, রং আর কাগজের তৈরি সব এলোমেলো শিল্পের নিদর্শন। টেবিল তার আনাচে কানাচে কোথাওই আমার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখেনি। নতুন রাজার স্বর্গরাজ্যে বাসায় অতিথি হয়ে আসা আমি একটু জায়গা করে নিয়ে বসলাম। আজ শেষ সন্ধ্যা! কাল ভোরেই সেই যান্ত্রিক ব্যস্ততায় ফেরার দিন।
টেবিলে হাতের বাম পাশে তিনটা উপন্যাসের বই। তার ওপর তাজা সন্ধ্যামালতি আর নুয়ে পড়া অপরাজিতা ফুল। সামনে বেশ কিছু রঙিন কাগজ আর কলম। নতুনের আগমনী সুর বাজে ব্যস্ততায়। হাতের ডানে মায়ের হাতে স্পেশালি আমার জন্য বানানো মাংসের রেসিপি। “আমার জন্য!” কি অপরিসীম আদর আর ভালোবাসা আছে ব্যাপারটায় তাই না? ছুটিতে এসেই অসুস্থ হয়ে এতগুলো দিন পড়ে ছিলাম।
প্রতিবার আমার প্রিয় যে খাবারগুলো মা রান্না করে একে একে খাওয়ায় তার একটাও খেতে পারিনি। একটা খাবারের বায়নাও করতে পারিনি এ কয়দিন। মা ব্যাকুল হয়ে বার বার সুযোগ খুঁজেছে আমার জন্য তার মায়াময়ী হাতের রান্না করতে। বাসায় আমার উপস্থিতিতেও আমার প্রিয় খাবার সে এবার করতে পারছে না, ব্যাপারটা তাকে অস্থির করেছে। তাই বোধহয় আজকে অবশেষে খেতে যে চেয়েছি, সেই আনন্দে মা আমার এতদিনের দিতে না পারা জমানো সব ভালোবাসা দিয়ে দিয়েছে এই খাবারে তার যথাসাধ্য।
বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়! আমার বহুদিন বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয় এই ভালোবাসার জন্য! আমি যে এই ভালোবাসা পাওয়ার ব্যাপারে বড্ড লোভী!জীবনে হতাশ হওয়ার মতো হাজারটা ব্যাপার আছে।কিন্তু তারপরও,এই ভালোবাসাগুলোর জন্য বেহায়ার মতো বেঁচে থাকার লোভ আছে আমার!
লেখা: ফেরদৌসি ফিরোজ ফ্লোরা
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com