মোহাম্মাদ উল্লাহ সোহেল: | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও সাংবিধানিক কাঠামোয় যখনই পরিবর্তনের হাওয়া বয়, তখনই সামনে আসে এক জটিল প্রশ্ন—কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাময়িকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।
তবে তা কেবলই একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। চূড়ান্তভাবে জাতীয় সংসদেই ভোটাভুটি বা প্রস্তাবনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় দেশের পরবর্তী অভিভাবক। বর্তমান ভূ-রাজনীতি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং দূরদর্শিতার দাবি রাখে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকাল ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সরকার এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় বড় অগ্রাধিকার। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক জোরদারের চেষ্টার মাঝে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দেওয়াটা জরুরি। বিশেষ করে আমেরিকা এবং পশ্চিমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ধরে রাখতে এমন এক ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত। এই সমীকরণে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের নাম স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার শীর্ষে চলে আসে। বহির্বিশ্বের সাথে তাঁর যে সুদৃঢ় ও বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে, তা দেশের কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিরাট নিয়ামক হতে পারে।
শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতিই নয়, বিগত সময়ের দুর্নীতি, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক ভারসাম্যপূর্ণ অভিভাবকত্বের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষায় ড. ইউনূসের মতো একজন অভিভাবক প্রতিচ্ছবি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও নিরাপদ হতে পারেন। বিশ্বমঞ্চে তাঁর ব্যক্তিত্ব দেশের সম্মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বহির্বিশ্বের যে কোনো সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বড় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
তবে রাষ্ট্রপতির এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণে যদি ড. মুহম্মদ ইউনূসের কোনো অপারগতা থাকে, তবে বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে দেশের রাজনীতি ও বাকস্বাধীনতার পক্ষের অন্যতম বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর অদম্য লড়াই এবং আপসহীন অবস্থান তাকে জনগণের চোখে এক সাহসী বীরের মর্যাদায় ভূষিত করেছে। তিনি যদি রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেন, তবে দেশ একজন নির্ভীক ও নীতিবান রাষ্ট্রপ্রধান পাবে। আর সেক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. ইউনূসের সম্ভাবনা কিন্তু ম্লান হয়ে যায় না; বরং জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের মতো বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ আসনে তাঁর নাম উচ্চারিত হওয়াটাও মোটেও অসম্ভব নয়।
বর্তমান কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যেতে হলে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার মেলবন্ধন ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে দেশের নীতিনির্ধারকরা এই সমীকরণকে কীভাবে কাজে লাগান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কার অভিজ্ঞতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com