শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

খরচও কম, ঝুঁকিও কম লাভে তিন গুণ, ওলকচু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

মাসুদ রায়হান   |   সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩৬৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

খরচও কম, ঝুঁকিও কম লাভে তিন গুণ, ওলকচু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

 

যশোরের মনিরামপুরে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক ওলকচু চাষ। কম খরচ, কম ঝুঁকি ও ভালো বাজারদরের কারণে এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবকদের অনেকেই ওলকচু চাষকে আয়ের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ৩৭৮ হেক্টর জমিতে ওলকচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মনিরামপুর উপজেলায় আবাদ হয়েছে অন্ততঃ অর্ধশত হেক্টর জমিতে। উপজেলার মশ্বিমনগর, রোহিতা, ঝাঁপা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, কাশিমনগর, ভোজগাতি, মনিরামপুর সদর, খানপুর ও ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকভাবে ওলকচুর চাষ হয়েছে।
খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাঝিয়ালী-চাঁদপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, একসময় তিনি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। প্রায় দুই দশক আগে সফল কৃষক খলিলুর রহমানের পরামর্শে ওলকচু চাষ শুরু করেন। এবার তিনি প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে থাই মেট্টো জাতের ওলকচু আবাদ করেছেন। তাঁর ভাষায়, বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ওল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
তাহেরপুর গ্রামের সফল কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমিতে থাই মেট্টো জাতের ওলকচুর আবাদ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে ওলকচু কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক ফসল হতে পারে।’
কৃষি বিভাগ জানায়, উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জমিতে ওলকচু ভালো জন্মে। ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাসের মধ্যে কন্দ রোপণ করলে ছয় থেকে সাত মাসে ফলন পাওয়া যায়। এ ফসলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রতি বিঘায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথী বলেন, ‘প্রচলিত অনেক ফসলের তুলনায় ওলকচু চাষে খরচ কম হলেও লাভ কয়েক গুণ বেশি। পতিত ও ছায়াযুক্ত জমিতেও এ ফসলের আবাদ করা যায়। তাই কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে ওলকচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ওলকচু চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম, কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com