মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মেধা, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার গণিত কুইজে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দুই কৃতী শিক্ষার্থী। তারা হলো— জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্র কান্তি হালদার এবং মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দেশসেরা এই দুই শিক্ষার্থীর গলায় পদক পরিয়ে দেন। এ সময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াত হোসেন। জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক, কাবিং ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে গণিত কুইজ প্রতিযোগিতা উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সব বাধা পেরিয়ে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয় অরিত্র ও সুরাইয়া। সেখানে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে তারা যথাক্রমে বালক ও বালিকা বিভাগে দেশের সেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। অরিত্র কান্তি হালদার মনিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা পলাশ কান্তি হালদার কেশবপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মা বিথিকা সরকার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অন্যদিকে, সুরাইয়া ইয়াসমিন মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
তার বাবা আবু সাঈদ দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা রুবিনা খাতুন তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। , এটি শুধু দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং পুরো উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, “অরিত্র ও সুরাইয়ার এই অর্জন প্রমাণ করেছে যে, মেধা ও সুযোগের সঠিক সমন্বয় ঘটলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে। তাদের এই সাফল্য মনিরামপুরের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে একসঙ্গে বালক ও বালিকা বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন মনিরামপুরের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি.এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “সুরাইয়ার সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও গণিতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। এই অর্জন আমাদের সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।” গর্বিত অভিভাবকদের অনুভূতিও ছিল আবেগঘন। তারা বলেন, “সন্তানের এমন অর্জন একজন মা-বাবার জন্য পরম আনন্দের। আমরা সবসময় তাদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিয়েছি। আজকের এই সাফল্য আমাদের ত্যাগ ও তাদের কঠোর পরিশ্রমের সার্থকতা।” দেশসেরা অরিত্র কান্তি হালদার বলেন, “গণিত আমার খুব প্রিয় বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই আমি এই সাফল্য পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।” সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এই অর্জনের পেছনে আমার শিক্ষক, বাবা-মা এবং বিদ্যালয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমি ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখি।” এদিকে দুই শিক্ষার্থীর এই অনন্য অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. মজনুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুহিবুল্লাহ মনু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান রয়েলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মনিরামপুর গণিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আব্দুস সবুর বলেন,মনিরামপুরের এই দুই ক্ষুদে গণিতবীরের সাফল্য শুধু যশোর নয়, সমগ্র দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com