আনোয়ার হোসেন | বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভাঙনে চলতি বছর ১৫টি গ্রামের অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে। অন্ততপক্ষে ৩০হাজার হেক্টর আবাদী জমিও এখন নদীর পেটে। স্থানান্তরিত হয়েছে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো। প্রতিনিয়ত স্থায়ী চরগুলো নদী ভাঙনের কবলে পড়লেও প্রতিরোধ পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন চরের হাজারো পরিবারের মানুষ।
এদিকে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো কিছু সহায়সম্পদ নিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি চর। এই চরের বয়স অন্ততপক্ষে ৪০ বছর। এ চরকে কেন্দ্র করে মসজিদ, মাদ্রাসা নানা অবকাঠামোসহ প্রায় ৪ শতাধিক পরিবারের বসতি গড়ে ওঠে।
কিন্তু গত ৩ বছর ধরে ক্রমাগত ভাঙনে চলতি সপ্তাহে পুরোপুরিভাবে বিলীন হয় চরের এই গ্রামটি। কাগজে কলমে এই গ্রামের নাম থাকলেও মানুষজনের বসতির কোন চিহ্ন এখানে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান মন্ডল জানান, এই গ্রামে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
কিন্তু চলতি বছর আমার বাড়িসহ বংশের প্রায় ৪০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, বংশের পারিবারিক বন্ধন এই নদী কেড়ে নিল। এই গ্রামের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, দশ বিঘা জমিসহ বসতভিটা নদীতে যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব। শুধু টিনের চালাসহ আর কিছুই নিতে পারিনি।
সবই নদীতে। হলদিয়া ইউনিয়নের কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, গুয়াবাড়ি গ্রামের অস্তিত্বও নেই। এই ইউনিয়নের অন্ততপক্ষে ১৫শ পরিবারের নিজ গ্রামের ঠিকানা আর নেই। ফুলছড়ি উপজেলার গাবগাছি, টেংরাকান্দি, পিপুলিয়া, পারুল, ফজলুপুর, খাটিয়ামারী, নিশ্চিতপুর গ্রামের পুরোপুরি এখন নদীর পেটে। এরেন্ডারবাড়ি ইউনিয়নে মৌলভির চরে ভাঙছে বসতভিটা ও বাড়িঘর।
সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের খারজানি, কুন্দেরপাড়া, গুপ্তমনি, মোল্লারচর ইউনিয়নের ছেরিমারার চর, মৌলভির চরের ৪টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, বেলকা, কাপাসিয়া ও চন্ডিপুরের ৬টি গ্রামে নদীভাঙনের প্রায় ২হাজার পরিবারের বসতভিটা এখন নদীগর্ভে।
সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, চরের গ্রামগুলো রক্ষায় সরকারের কোন পদদেক্ষ না থাকায় প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে শতশত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃশ্ব হচ্ছে। ফুলছড়ি উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বলেন, চরের মানুষের অন্যতম সম্পদ কৃষি জমি।
সেগুলোও নদীতে গিয়ে বালুতে পরিণত হচ্ছে, এতে করে মানুষজনের জীবনযাত্রার উন্নয়নে মারাত্মক বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। নদী গবেষক ড. আইনুন নিশাত বলেন, নদীকে নদীর মতো করে শাষন না করা গেলে নদী তার মতো করে কাজ করবে। এজন্য তিনি মানুষজনকে দায়ী করে বলেন, নদীগুলোকে আমরা রক্ষা করতে পারছিনা। একারণে নদী অসময়ে ভাঙছে এবং এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। তিনি বলেন, নদীর নাব্য রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে ভয়াবহতা আরও বাড়বে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com