আনোয়ার হোসেন | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৭২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার রাজনীতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তনী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন চৌধুরী আর নেই।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থানে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক ও বেদনার ছায়া নেমে এসেছে।
বর্ণাঢ্য ও অনুকরণীয় এক জীবনের অধিকারী ছিলেন মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। তাঁর জন্ম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নে। মেধাবী এই ব্যক্তিত্ব বুয়েট থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও নেতৃত্ব দেন। পেশাগত জীবনে একজন সফল প্রকৌশলী হিসেবে তিনি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর মতো সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রাখেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সরাসরি জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি বিপুল ভোটে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পুনরায় বিজয়ী হয়ে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা গোবিন্দগঞ্জসহ গোটা গাইবান্ধায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সশরীরে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
মরহুমের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে তাঁর ভাতিজা মাসুম লুমেন এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, “বড় আব্বা (চাচা) নম্র, ভদ্র ও সৎ লোক ছিলেন।”- তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
পেশাগত জীবনে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেও মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ছিলেন নিরহংকার, সদালাপী এবং মাটির মানুষ। ক্ষমতার প্রলোভন তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি, বরং জনগণের ভালোবাসা অর্জনকেই তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি মনে করতেন। তাঁর এই চলে যাওয়া গোবিন্দগঞ্জবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম গোবিন্দগঞ্জের কাটাবাড়িতে নিয়ে আসা হবে এবং সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, রাজনৈতিক অনুসারী ও স্বজনদের রেখে গেছেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com