শফিকুল ইসলাম বাদল,(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাছে যেন পাতা নেই, আছে শুধু ফল। ডাল থেকে কাণ্ড, কাণ্ড বেয়ে একেবারে গোড়া পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদাভ লটকন। কোথাও কোথাও ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে ডাল। গ্রীষ্মের খরতাপের মধ্যেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার লটকনের বাগানগুলো এখন এমনই মনোমুগ্ধকর রূপে সেজেছে।
বাম্পার ফলনে যেমন খুশি চাষিরা, তেমনি প্রতিদিন বাগানে ভিড় করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরাও।উপজেলার পাহাড়ি এলাকার লাল মাটিতে ছায়াযুক্ত পরিবেশে সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে। চম্পকনগর, মেরাসানি, সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর এলাকার বাগানগুলোতে এখন পুরোদমে চলছে লটকন সংগ্রহ। ভোর থেকেই শ্রমিকেরা গাছ থেকে লটকন নামাচ্ছেন, আর একের পর এক পাইকার বাগানেই ফল কিনে ট্রাক ও পিকআপে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর বিজয়নগরে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন হয়েছে আশানুরূপ। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার লটকন বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাগানগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গাছ ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। অনেক গাছে পাতার চেয়ে ফলের সংখ্যাই বেশি।
হলুদ রঙের থোকায় থোকায় লটকন দেখে ক্রেতাদেরও আগ্রহ বাড়ছে। টক-মিষ্টি স্বাদ আর রসালো হওয়ায় বাজারে ফলটির চাহিদাও বেশ ভালো।বাগান মালিক মো. তফাজ্জল হোসেন জানান, প্রায় সাত-আট বছর আগে ময়মনসিংহ থেকে লটকনের চারা এনে বাগান করেছিলেন। তখন অনেকেই এ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেননি।তিনি বলেন, “প্রথম দিকে খুব বেশি ফল পাইনি। তবে গত দুই বছর কিছু গাছে ফল আসে। এবার প্রায় সব গাছেই প্রচুর লটকন ধরেছে।
লক্ষাধিক টাকার লটকন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি সহায়তা পেলে আরও বড় পরিসরে লটকনের চাষ করতে চাই।”সিঙ্গারবিল গ্রামের কৃষক আক্তার মিয়া বলেন, “এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। পাইকাররা বাগান থেকেই প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দাম ভালো থাকায় লাভও হচ্ছে।”
বর্তমানে বিজয়নগরের বাগান থেকে সংগ্রহ করা লটকন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বাজার ছাড়াও ভৈরব, কুমিল্লা ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।বিজয়নগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন খান বলেন, “বিজয়নগরের মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কয়েকজন উদ্যোক্তার হাত ধরে এখানে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হয়েছে। এবার ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও অনেকে এ ফলের চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছি।”
একসময় কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া লটকনের চাষ এখন বিজয়নগরের কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সহজ বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের লটকন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com