ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৭৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসীর প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগকে আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) টাইগারপাসস্থ চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় মেয়র চসিকের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মেডিকেল অফিসার (পুরুষ) পদে ৭ জন, মেডিকেল অফিসার (মহিলা) পদে ১৬ জন, টেকনিশিয়ান (রেডিও ইমেজিং) পদে ১ জন, টেকনিশিয়ান (প্যাথলজি) পদে ৩ জন, ফার্মাসিস্ট পদে ২ জন, টেলিফোন অপারেটর কাম রিসেপশনিস্ট পদে ১ জন, মিডওয়াইফ পদে ২ জন এবং আয়া পদে ১৪ জনকে স্থায়ী করা হয়েছে।
এছাড়া চসিক পরিচালিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে দীর্ঘদিন কর্মরত দুইজন প্রভাষক, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ৮ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) এবং একজন মালিকে স্থায়ী করার ঘোষণা দেন মেয়র।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা প্রমুখ।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে হেলদি সিটি হিসেবে গড়তে হলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সময়নিষ্ঠ, আন্তরিক ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা দেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। আমি নিজে বিভিন্ন সময় হঠাৎ ভিজিট করি, তাই প্রত্যেককে তাদের দায়িত্ব পালনে যত্নবান হতে হবে।
তিনি বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া টাইফয়েডের টিকাদান কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য উন্মুক্ত। মেয়র সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্কুলগামী ও অ-স্কুলগামী শিশুদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
রোগ প্রতিরোধে র্যাবিজ ভ্যাকসিন সরবরাহ অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো এলাকায় ভ্যাকসিন ঘাটতি থাকে, তা দ্রুত আমাকে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাবেন। যেন আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়র জানান, শিশুদের জন্য নিওনেটাল আইসিইউ স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন এবং চসিক হাসপাতালসমূহে অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন অনেক রোগী আর্থিক অসুবিধার কারণে চিকিৎসা নিতে পারেন না। চসিক এসব মানুষের পাশে থাকতে চায়। প্রয়োজনে ফ্রি মেডিসিন সার্ভিস চালু রাখব, এবং বাইরের ইনভেস্টিগেশন সেন্টারে রোগীরা যেন কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ছাড় পায়, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।
রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, “একজন চিকিৎসকের হাসি, কথা ও কাউন্সেলিং রোগীর মানসিক শক্তি বাড়ায়, যা অনেক সময় ঔষধের চেয়েও কার্যকর হয়। চিকিৎসকরা রোগীদের আশ্বস্ত করবেন—এই মানসিক সাপোর্টই চিকিৎসার অংশ।”
তিনি বলেন, চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের স্থায়ীকরণের মধ্য দিয়ে তাদের কর্ম-নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন আপনাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে নতুন উদ্যমে, নতুন শক্তি নিয়ে নগরবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে আপনাদের,”—বলেন মেয়র।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com