শফিকুল ইসলাম বাদল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)জেলা প্রতিনিধি: | রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর আদি নিবাস হিসেবে ভারত, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলকে ধরা হয়।

এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এক সময় এ অঞ্চলের মানুষ কাঁঠালের জন্য নরসিংদী, কুমিল্লা কিংবা পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর ও কসবার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে।
নবীনগরের বিভিন্ন বাজারে এখন প্রচুর কাঁঠালের সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। সরবরাহ বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় দামও তুলনামূলক কম। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের প্রাঙ্গণ এবং সড়কের ধারে থাকা গাছগুলোতেও ঝুলছে অসংখ্য কাঁঠাল।বর্তমানে কাঁঠাল শুধু পাকা ফল হিসেবেই নয়, কাঁচা অবস্থায়ও তরকারি ও মাংস রান্নার জনপ্রিয় উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া এর বীজ ভাজা, রান্না কিংবা ভর্তা করে খাওয়ার প্রচলনও বেড়েছে। ফলে কাঁঠাল এখন অনেক পরিবারের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে।পুষ্টিগুণেও অনন্য
কাঁঠাল একটি সুস্বাদু ও অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এতে রয়েছে ক্যালোরি, পানি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আঁশ, প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ফসফরাসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত কাঁঠাল খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।নবীনগর সদর বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা মোমেন মিয়া বলেন,এবার বাজারে কাঁঠালের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তাই দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।”এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন,”বিগত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। কৃষকরা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি বাজারজাত করেও ভালো লাভ করছেন।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে খাজা, গালা ও খাসিয়া জাতের কাঁঠাল বেশি চাষ হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি কাঁঠাল-১ ও বারি কাঁঠাল-২ বর্তমানে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একটি মাঝারি আকারের কাঁঠাল গাছে সাধারণত ৫০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত কাঁঠাল ধরে।কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন,আমরা কৃষকদের বারি কাঁঠাল-১ রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ এটি অধিক ফলনশীল, লাভজনক এবং বাজারে এর চাহিদাও বেশি।”
কৃষকদের জন্য পরামর্শ
ভালো ফলন নিশ্চিত করতে বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আবার খরা মৌসুমে প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর সেচ দিলে গাছ সুস্থ থাকে এবং ফলনও ভালো হয়।
নবীনগরে এ বছরের কাঁঠালের বাম্পার ফলনে একদিকে যেমন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, অন্যদিকে কম দামে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই জাতীয় ফল কিনে ভোক্তারাও পাচ্ছেন স্বাদ, পুষ্টি এবং অর্থ সাশ্রয়ের বাড়তি সুবিধা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com