শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নেত্রকোণায় বিদ্যুতের চোখপলান্তি খেলাঃ চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

আসাদুজ্জামান তালুকদার  নেত্রকোণা জেলা    |   শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নেত্রকোণায় বিদ্যুতের চোখপলান্তি খেলাঃ চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
৫৬

নেত্রকোণার শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং কয়েক সেকেন্ড পরপর বিদ্যুৎ ফিরে আসার ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুতের ওঠানামা হচ্ছে। কখনো কয়েক মিনিট, কখনো বা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা ও বারবার ট্রিপিং। এতে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ওয়াই-ফাই রাউটার, আইপিএস, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা শহরের নাগড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের এমন অবস্থা যে কোনো কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় আবার আসে। এতে আমার রাউটার ও টেলিভিশনের পাওয়ার সাপ্লাই নষ্ট হয়ে গেছে।”

সাতপাই এলাকার এক ব্যবসায়ী  বলেন, “দোকানে কম্পিউটার ও প্রিন্টার দিয়ে কাজ করি। বিদ্যুতের বারবার আসা-যাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রিন্ট করতে গিয়ে মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকদেরও হয়রানি পোহাতে হয়।”

শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, রাতের বেলায় পড়াশোনার সময় বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে গরমের তীব্রতায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু লোডশেডিং নয়, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ ও নিম্নমানের ভোল্টেজের কারণেও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন গ্রাহকরা। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামত কিংবা নতুন করে কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ত্রুটিপূর্ণ লাইন সংস্কার এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণ তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুতের এই “চোখপলান্তি খেলা” বন্ধ না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং গ্রাহকদের আস্থা সংকটে পড়বে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এতে একদিকে যেমন জনভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে গ্রাহকদের অর্থনৈতিক ক্ষতিও হ্রাস পাবে।

এবিষয়ে জানতে নেত্রকোণা পিডিবির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ জানান, শুধু নেত্রকোণা নয় ময়মসিংহেও ভোল্টেজের সমস্যা রয়েছে। আগষ্টের পরে শম্ভুগঞ্জে একটি গ্রীড উপকেন্দ্র হবে তখন ভোল্টেজের সমস্যার সমাধান হবে। আমরা বলি যে ৩৩ হাজার ভোল্ট কিন্তু আমরা বাস্তবে পাইনা। বাস্তবে ২ হাজার ৭ শ থেকে ২ হাজার ৮ শ ভোল্ট পাই। মাঝে মাঝে ৩৬ হাজার ভোল্টও পাই। তবে,  আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com