শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ফের অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ : গাইবান্ধায় ৫ জনের শরীরে লক্ষণ

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :   |   রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১০৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ফের অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ : গাইবান্ধায় ৫ জনের শরীরে লক্ষণ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আবারও গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগাক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির কারণে অন্তত ৫জন মানুষের মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে খামারি ও পশু মালিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে রোগটি প্রতিরোধে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংক্রমিত ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের আবদুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে খায়রুল ইসলাম (৩৪), নবীর হোসেনের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (৪৮), আজিজল হকের ছেলে আজগর আলী (৪৯), আজির উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেন (৫১) ও হাবিজার রহমানের ছেলে নাজমুল হক (৪২)।

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের খামারি শামীম সরকার বলেন, অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেই শুধু প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তৎপরতা চোখে পড়ে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই তাদের আর খোঁজ থাকে না। নিয়মিত টিকাদান ও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের গাফিলতির কারণেই অনেক খামারি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সংক্রমিত জাহেদুল ইসলাম বলেন, এখনো পুরোপুরি সুস্থ হইনি। ভেতরে ভেতরে আতঙ্ক কাজ করছে জীবাণু আছে কি না। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো লোক খোঁজ নেননি। তবে পশু হাসপাতালের লোকজন এসেছিলেন এবং তারা গরু-ছাগলগুলোকে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন।

পৌর শহরের কসাই নয়া মিয়া বলেন, ১৫ ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে সপ্তাহে প্রায় ৩শ’ গরু জবাই হয়। পৌরসভার গরুগুলো পরীক্ষা করে জবাই করা হয়। বাকি ১৫ ইউনিয়নের খবর জানি না।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, বিষয়টি আমি চৌকিদারের মাধ্যমে জেনেছি। শুনলাম পশু হাসপাতালের লোকজন এসেছিলেন। তারাও আমাকে কিছু বলেননি। সরকারিভাবে কোনো মনিটরিং নেই, সে কারণেই এ অবস্থা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করা হয়েছে গত মাসের ২৫ তারিখে। আমরা সংবাদ পেয়েছি ৩১ তারিখে। এরপরে গিয়ে আর মাংস পাইনি। কারো ফ্রিজে আছে কি না সেটাও জানার চেষ্টা করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আতিয়ার রহমান সোহাগ বলেন, আক্রান্তদের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ অ্যানথ্রাক্স শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা উপজেলা পর্যায়ে তো দূরের কথা, জেলা পর্যায়েও রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া কোনো গরু জবাই করার সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের। ভবিষ্যতে পরীক্ষা ছাড়া যেন কোনো গরু জবাই করা না হয়, সে বিষয়ে কসাইদের নিয়ে সভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

উল্লেখ, এর আগে গত বছরের ৫ অক্টোবর অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করা হয়। মাংস কাটাকাটির কাজে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় ১১ জন। এর ৪ দিন পর ২ অক্টোবর তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা দেখা দেয় ও পচন ধরে।

বিশেষ করে হাত, নাক, মুখ ও চোখে এসব উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com