ইবি প্রতিনিধি: | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটি’র নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা কমেন্টের জেরে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকির দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সজীব হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জানা গেছে, সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটির নতুন কমিটি প্রকাশিত হয় যেখানে আসিফ হাসান লিখনকে সভাপতি এবং মনিরুজ্জামান মিমকে সম্পাদক করা হয়। এই কমিটিকে কেন্দ্র করে বৈছাআ নেতা বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি নবগঠিত কমিটিকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকৃত আর্জেন্টিনা কমিটি’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং সভাপতি আসিফ হাসান লিখনের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
উক্ত পোস্টের নিচে ‘Sajib Hasan’ (সজীব হাসান) নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করে লিখেন, “বান্ধবীর টাকা মেরে, ডেকোরেশনের চেয়ার খেয়ে মনে হয় বাঁধন ভুলে গেছে নিজেও ছাত্রলীগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল” এই কমেন্টকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছাত্রনেতা বাঁধন। কমেন্টের প্রতিক্রিয়ায় সজীব হাসান নামক শিক্ষার্থীকে ফোন করে হুমকি প্রদান করেন বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। তিনি সজীবকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, বান্ধবীর টাকা মেরে দেয়া এবং চেয়ার চুরির বিষয়টি আজকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রমাণ করবি। সাংবাদিকরাও প্রমাণ করতে পারেনি। তোকে এই কমেন্ট করার জন্য শেল্টার দিচ্ছে কে? তোর ডিপার্ট্মেন্টের যদি কোনো বাপ থাকে, ডিপার্টমেন্টের কোনো শিক্ষক বা চেয়ারম্যান থাকে আমাকে বল। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রমাণ দিতে না পারলে তোর খবর আছে। আমার বন্ধু আমাকে বাপ-মা তুলে গালি দেয়ায় চেয়ার জব্দ করেছিলাম, আমি চেয়ার চুরি করিনি। ক্যাম্পাসের কোনো বাপই তোকে বাচাতে পারবে না। ক্ষমতাসীন দলের সাহেদ পারেনা আর তুই কোন চ্যাটের বাল।
তুই সিনিয়রিটি মেনে কমেন্ট করবি না? ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সজীব হাসান বলেন, একটা পাবলিক পোস্টে আমি কমেন্ট করতেই পারি। তাছাড়া আমি তো ভুয়া কিছু বলিনি। ক্যাম্পাসে আসার পরে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঁধনের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি এবং চেয়ার চুরি বা বান্ধবীর টাকা আত্মসাৎ এর মতো নিউজ আমাদের সামনে এসেছে। তারই প্রেক্ষিতে আমি কমেন্ট করেছি। তারপরে উনি আমাকে হুমকি দিয়েছে। হুমকির পরে আমি প্রাণনাশের আতংকে আছি কারণ কারণ এর আগেও ক্যাম্পাসে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। আগামীকাল প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জানাবো। এবিষয়ে অভিযুক্ত বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, সিনিয়র হিসেবে ছোট ভাইকে শাসন করতেই পারি, গালি দিতেই পারি। তাছাড়া ছেলেটা না জেনে কমেন্টে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, পার্সোনাল এ্যাটাক করেছে, নাম বিকৃত করেছে। কারণ চেয়ার চুরি আমি করিনি, তখন চেয়ারগুলো জব্দ করেছিলাম।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com