দিদারুল হৃদয়,গুইমারা, খাগড়াছড়ি: | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে খাগড়াছড়ি জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে এখনো প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০২৩ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চার দফা সময় বৃদ্ধি শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত ট্রেডার্স প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সরবরাহের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছিল। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা না পাওয়ায় এখনো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
গুইমারা উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস নাঈম জানান, ভবনের শতভাগ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ভবনের পাশেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ বড় অঙ্কের বাজেট দাবি করছে, যা নতুন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি, প্রয়োজনীয় তার এবং একটি থ্রি-ফেজ ট্রান্সফরমারের জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে এস অনন্ত কনস্ট্রাকশন-এর বিদ্যুৎ সংযোগের দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা বলেন, মাটিরাঙ্গা আবাসিক প্রকৌশলী এবং জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি।
মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন, ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হলে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার বলেন, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন না থাকায় অনেক সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। আর যেসব দপ্তর চালু রয়েছে, তার অধিকাংশই ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রশাসনিক ভবনটি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com