এস এম নওশের | শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৪৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আমাকে কেউ দেখতে পারেনা।কেউ পছন্দ করেনা। কথা গুলি বলে কেঁদে ফেললেন এক ভিক্ষুক নারী। আজ বিশ্ব ডাইবেটিস দিবস উপলক্ষে এসো সচেতন হই নামে একটি মানবিক সংগঠন আয়োজিত একটা ডাইবেটিক সচেতনতা এবং ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে গিয়েছিলাম সকালে।গতকাল প্রেসক্লাবে তাদের সাথে করেছি সাংবাদিক সম্মেলন যা বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে এসেছে।
আমরা কিছু মানুষ কে বিনামুল্যে ডাইবেটিক পরীক্ষা এবং প্রেস্ক্রিপশন করে দিয়েছি।সব আগত রুগি দের দেখা শেষ।কফি খাচ্ছি এমন সময় এই ক্যম্প আয়োজক মাজহার সাহেব বললেন একজন ডাইবেটিক পংগু ভিক্ষুক মহিলা কে একটু যদি দেখে দিতেন তাহলে তাকে রিকশা করে নিয়ে আসতাম।
সে পংগু আবার চোখেও ছানি।তাই সে আসতে পারবেনা।আমাদের ভলান্টিয়ার দের তাকে গিয়ে আনতে হবে।বললাম নিয়ে আসুন। ভলান্টিয়ার রা তাকে ধরে অটো থেকে নামালো।রাস্তা থেকে ক্যাম্পের অফিস রুম টা একটু দুরেই।তার উপর পুরা রাস্তাটাই এবরো থেবড়ো।
আমি আয়োজক কে বললাম উনাকে কস্ট করে আমার কাছে আনার দরকার নেই।আমি ই উনাকে ওখানেই গিয়ে দেখে দিব।তার আগে উনার ফিফ্লো টেস্ট টা করুন।একজন ভলান্টিয়ার মেশিন নিয়ে তার টেস্ট করল।দেখলাম অনেক হাই ডাইবেটিস।জিজ্ঞেস করলাম কোন অসুধ / ইন্সুলিন নিচ্ছেন কিনা।
উনি ইবসুলিন কিম্বা অসুধের নাম বলতে পারছেন না। বললেন উনি সাদা আর ঘোলা দুই রকম ইন্সুলিন সকালে ৭০ আর রাতে ৩০ করে নিচ্ছেন।উনার পেটে সন্তান আসার সময় ১৩ বছর আগে ডাইবেটিস ধরা পড়ে।এর পর থেকেই এই অবস্থা বুঝলান তার হয়েছিল গেস্টেশনাল ডাইবেটিস।।তার পা কেটে ফেলতে হয়েছে একটা।
কারন ঘা থেকে পচন।কারন সুগার কন্ট্রল নেই এখন চোখে ছানি।কিন্তু ডাইবেটিস কন্ট্রল নয় বলে অপারেশন করা যাচ্ছেনা। ভলান্টিয়ার দের বললাম উনাকে বারডেমে এনে চিকিতসা করতে হবে, সেই ব্যবস্থা করতে।উনাকে এম্নেই কিছু টাকা দিয়ে দেয়া হল তার একটা কন্টাক নাম্বার রেখে।
ক্যাম্পে চিকিতসা সম্ভব না মহিলা টা কান্না জড়িত স্বরে বলল তার স্বামি তাকে ডাইবেটিস বলে আর দেখেনা। উনার এই অবস্থা দেখে সকলের ই মন খারাপ হয়েছিল।আসলে এই দেশে মানুষ কত অসহায়।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com