শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদী ভরাটের অভিযোগ: নিজের জমির দাবি এনসিপির সাবেক জেলা আহ্বায়কের

শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :-   |   রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদী ভরাটের অভিযোগ: নিজের জমির দাবি এনসিপির সাবেক জেলা আহ্বায়কের
৭৮

তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় বালু ফেলে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, নদী নয়, তাঁর নিজস্ব জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে মেড্ডা শ্মশানঘাটের পূর্ব পাশে, সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের কাশীনগর গ্রামের উত্তরাংশে তিতাস নদীর তীরঘেঁষা এলাকায় ভরাট কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক মাস আগে এক্সকাভেটর দিয়ে নদীসংলগ্ন পাড় উঁচু করার কাজ শুরু হয়। গত কয়েক দিন ধরে মেঘনা নদী থেকে বাল্কহেডে করে বালু এনে ওই এলাকায় নিয়মিত ভরাট করা হচ্ছে।

নদী ও জলাশয় সংরক্ষণে কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’-এর আহ্বায়ক সোহেল আহাদ বলেন, “প্রশাসনের নীরবতা ও উদাসীনতার সুযোগে তিতাস নদী প্রতিনিয়ত দখল ও ভরাটের শিকার হচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একসময় তিতাস নদীর অস্তিত্বই সংকটে পড়বে। শুধু তিতাস নয়, জেলার অন্যান্য ছোট নদীও একই পরিণতির মুখে পড়তে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে আজিজুর রহমান লিটন বলেন, “নদী ভরাটের অভিযোগ সঠিক নয়। এটি আমার নিজস্ব জমি এবং নদী থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে বালু ফেলা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এটি একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক এলাকা। ভবিষ্যতে এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তবে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভরাট বা বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে কোনো সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ভৈরব-আশুগঞ্জ নৌবন্দর ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মো. নাদিম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে নদী ভরাটের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দাবি, তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com