শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

‎মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের মহোৎসব

‎মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধি   |   সোমবার, ২২ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

‎মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের মহোৎসব
৫৮

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগে সাধারণ রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাসপাতালের ফার্মেসী বিভাগকে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


‎অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট,কৌশিক দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের মাত্রা দিন দিন আরও বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে, আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের একজন ক্লিনার রাকেশ দত্তের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও নিয়মিতভাবে হাসপাতালের ফার্মেসীতে বসে রোগীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিতরণ করে আসছেন। একজন ক্লিনার কীভাবে ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব পালন করছেন এবং কার নির্দেশে এমন সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব ও পেশাগত সীমারেখা লঙ্ঘন করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। ফলে হাসপাতালের সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

‎সচেতন নাগরিকদের মতে, ওষুধ বিতরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়। এ দায়িত্ব যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অনুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। অন্যথায় ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রার ওষুধ সরবরাহের কারণে রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এক সেবাগ্রহীতা দাবি করেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে অনিয়মকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সচেতন মহল দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা: ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন,কৌশিকের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন রাকেশ দত্ত ক্লিনার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও অনেক দিন যাবত ফার্মেসী থেকে ঔষধ বিতরণ করে আসছে সেই তার জন্য কেও কিছু বলে না। এদিকে, মণিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা-উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যমান অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
.
আরও
Advertise with us

এ বিভাগের আরও খবর

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com