নিজস্ব প্রতিবেদক: | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকার ঘোষিত বিশেষ কৃষক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কৃষক কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তালিকা থেকে বাদ পড়লেও অযোগ্য ও কম ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও তারা কৃষক কার্ড পাননি। অন্যদিকে, যাদের জমিতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি কিংবা কৃষিকাজের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত নন, তাদের অনেকেই কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক জানান, কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাননি। তাদের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৯০ জন কৃষক কার্ডের চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বজন ও অনুসারীদের নামই অন্তর্ভুক্ত করছেন,এমনকি একই পরিবারে মা,ছেলে, ভাই বোন সহ একাধিক কৃষক কার্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড গড়াকাটা গ্রামের চিত্র দেখলেই বুঝা যায় বাকি ওয়ার্ড গুলোতে কিভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতি করা হয়েছে।গড়াকাটা গ্রামের কৃষক তালিকার মধ্যে দেখে যায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য দের নাম অন্তর্ভুক্তি প্রমান।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বঞ্চিত করে যদি অযোগ্যদের কার্ড দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এটি সরকারি সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে। তারা পুরো তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমরা তালিকা গুলো প্রকাশ করেছি,যদি এই তালিকার মধ্যে কোন ত্রুটি থেকে থাকে তাহলে স্থানীয়দের মধ্যে যে কেউ একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে কৃষক কার্ড বিতরণ বন্ধ থাকিবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com