আনোয়ার হোসেন | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৯০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সার নিয়ে কোনো কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে দেওয়া হবে না—এই কঠোর বার্তা নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিলার পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত বিশেষ মনিটরিং ও বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাঠ পর্যায়ে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সারের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে এই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ মনিটরিং ও বাজার তদারকি কার্যক্রমে
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খুচরা ও পাইকারি সার বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় ডিলারদের স্টক রেজিস্টার, বিক্রয় রসিদ এবং মূল্যের তালিকা যাচাই করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
লক্ষ্মীপুর বাজারের ডিলার পয়েন্টে সার নিতে আসা কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে, তারা বর্তমান মনিটরিং ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, “সদরে সার মনিটরিং খুব ভালো হওয়ায় আমরা সার পাচ্ছি। সারের কোন সংকট নেই। হয়রানি ছাড়াই অনায়াসে বস্তা বা খচরা সার নিতে পারছি।”
অন্য আরেকজন প্রান্তিক চাষী জানান, “চাহিদামতো খুচরা সার পেতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। কৃষি অফিসের লোকজন তদারকি করায় সঠিক দামেই সার কেনা যাচ্ছে।”
সার বিতরণের পরিস্থিতি নিয়ে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ডিলার পয়েন্টের (মেসার্স প্রবীর কুমার সাহা) ব্যবস্থাপক গোপাল জানান, “কৃষকদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার দেওয়া হচ্ছে।”
গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম জানান, কৃষকদের সারের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। ডিলাররা যেন কোনোভাবেই বেশি দাম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলারদের পয়েন্টে উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সাথে সারের মূল্য নিয়ে কথা বলছেন। যাতে ডিলাররা সারের অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারেন। বস্তার পাশাপাশি যার যতটুকু প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যদি কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা সরকারের নিয়মের বাইরে গিয়ে সারের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি অফিসের এই কঠোর অবস্থানের কারণে এ পর্যন্ত উপজেলার সর্বত্র সারের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে এবং কৃষকরা স্বস্তিতে তাদের আবাদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com