শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত : ফুলছড়িতে খাল খনন শেষে ৬১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন পিআইও

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৮৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত : ফুলছড়িতে খাল খনন শেষে ৬১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন পিআইও

দুর্নীতি ও অপচয়ের প্রচলিত ধারণাকে পেছনে ফেলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের কাজে সততা ও আর্থিক সুশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার বাস্তবায়িত উদাখালি খাল পুনঃখনন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর সাশ্রয়ী ২০ লাখ ৬২ হাজার ১শ’ ৯৯ টাকা এবং বারমাইশা খালের বরাদ্দের পুরো অর্থ ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৫৬ টাকাসহ সর্বমোট ৬১ লাখ ৮৬ হাজার ২শ’ ৫৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দেশব্যাপী নদী, নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও এর আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল ফসলি জমির জলাবদ্ধতা দূর করে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পনা মাফিক
উদাখালি খাল পুনঃখনন ও সংরক্ষণ প্রকল্প কাজ পরিচালনা করায় প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে প্রকৃত ব্যয় অনেক কম হয়েছে। কাজের গুণগত মানে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত প্রাক্কলন ছাড়াই নির্ধারিত পরিমাপের খাল খনন কাজ শেষ করা হয়। পরবর্তীতে কাজের বিল পরিশোধের পর অবশিষ্ট অব্যয়িত ও সাশ্রয় হওয়া সরকারি অর্থ যথাযথ নিয়মে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়। একই সংগে বারমাইশা খাল পুনঃখনন ও সংরক্ষণ প্রকল্পটি পরিপত্রে বেঁধে দেওয়া
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ না থাকায় প্রকল্প বরাদ্দের পুরো টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উদাখালি খাল পুনঃখনন করায় এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো, এখন তা অনেকটাই দূর হয়েছে। এর ফলে সময়মতো আমন ও অন্যান্য ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ স্থানীয় জলজ পরিবেশ ও মৎস্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস.এম. আবু মোতালেব জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিটা টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা আমাদের মূল ব্রত। ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোতেও এই সততা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ধারা অব্যাহত থাকবে।

উন্নয়ন কাজের গুণগত মান বজায় রেখে সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে তা ফেরত দেওয়ার এই সৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন যদি এভাবে সততা ও জবাবদিহিতার সাথে করা হয়, তবে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং দেশ সুশাসনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফুলছড়ি উপজেলায় উদাখালি খাল পুনঃখনন কাজটি নির্ধারিত মান ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করার পরও মিতব্যয়িতা ও কঠোর তদারকির কারণে কিছু অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। সরকারি অর্থের কোনো অপচয় না করে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রবিধান অনুযায়ী সেই অব্যয়িত অর্থ আমরা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছি।

এ ছাড়াও পরিপত্রের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বারমাইশা খাল পুনঃখনন কাজটি সম্পন্ন করার সুযোগ না থাকায় প্রকল্প বরাদ্দের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ জনসেবামূলক কাজে সুশাসন ও জবাবদিহিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com