মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রত্যয়ে যশোরের মনিরামপুরে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ বরাদ্দ ২০২৫–২০২৬ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে উপজেলার ৩০টি অসহায় পরিবারের হাতে একটি করে মোট ৩০টি ছাগল তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার মোট ৫০টি পরিবারের মাঝে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সকালে মনিরামপুর উপজেলার আশ্রয়ন সেবা সংস্থা (এএসএস)-এর কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুরাইয়া নার্গিস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক এম. নূরুন্নবী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং আশ্রয়ন সেবা সংস্থা (এএসএস)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের হাতে এমন একটি সম্পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য নিয়মিত আয় ও স্বাবলম্বিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক সুরাইয়া নার্গিস বলেন, “আশ্রয়ন সেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল অনুদান প্রদান নয়; বরং এমন টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করা, যাতে একজন সুবিধাভোগী নিজ উদ্যোগে আয় করতে পারেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্ষম হন। একটি ছাগল অনেক পরিবারের জন্য হতে পারে স্বাবলম্বিতার প্রথম সোপান। আমরা চাই, আজকের এই সহায়তা আগামী দিনের একটি সফল জীবিকার ভিত্তি হয়ে উঠুক।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দান নয়, প্রয়োজন সক্ষমতা সৃষ্টি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আশ্রয়ন সেবা সংস্থা বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক এম. নূরুন্নবী বলেন, “সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। একটি ছাগল হয়তো ছোট সহায়তা মনে হতে পারে, কিন্তু সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য এমন বাস্তবমুখী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
তিনি সুবিধাভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই সহায়তাকে শুধু অনুদান হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব ও সম্ভাবনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নিষ্ঠা ও যত্নের সঙ্গে ছাগল পালন করলে এটি ভবিষ্যতে পরিবারের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে অসহায় মানুষের কল্যাণে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ছাগল পেয়ে উপকারভোগীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সহায়তা তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। তারা জানান, যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে ছাগল পালন করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উপকারভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি ছিল আন্তরিকতা, মানবিকতা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com