বৃহস্পতিবার ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

প্রধান আসামীকে বাদ দিয়ে এজাহার বহির্ভূতকে আসামী করে প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ পিবিআইয়ের বিরুদ্ধে

ইসমাইল ইমন,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি   |   রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   293 বার পঠিত

প্রধান আসামীকে বাদ দিয়ে এজাহার বহির্ভূতকে আসামী করে প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ পিবিআইয়ের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম নগরীর জনবহুল বৃহত্তর বাকলিয়া এলাকায় ভাইরাল হওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ৮ জনের বিরুদ্ধে সাইবার পিটশন মামলা দায়ের হয়। গত ২০ জুলাই ২০২২ইং তারিখ চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে স্থানীয় এক ব্যক্তি জনৈক মোহাম্মদ জানে আলম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর তদন্ত শেষে মামলার এজাহার নামীয় ১ নাম্বার আসামী বাকলিয়া নোমান কলেজের সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের কথিত নেতা পরিচয় দানকারী মোহাম্মদ আজমীর শাহকে বাদ দিয়ে এজাহার বহির্ভূত স্থানীয় এক সাংবাদিক আবুল হাসনাত মিনহাজকে ১ নাম্বার করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে চট্টগ্রাম মেট্রো পিবিআই। এদিকে মামলায় জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে সত্যতা মিলেনি। আবুল হাসনাত মিনহাজ স্থানীয় দৈনিক ইনফো বাংলা ও জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার সাবেক রিপোর্টার এবং বর্তমানে জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ এর চট্টগ্রামের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

মামলার তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় উক্ত মামলার বাদীর মানিত ২জন স্বাক্ষী মোঃ আলী আজগর প্রঃ টুটুল ও মোঃ ইকবাল দ্বয়ের উপস্থিতিতে আইসিটি মামলার ৩ জন এজাহারনামীয় আসামী মোঃ মাঈন উদ্দিন প্রঃ লেদু, মোঃ জাহেদ ইসলাম প্রঃ হোসেন ও মোঃ আলাউদ্দিন মিয়াদের মৌখিক স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাকলিয়া এলাকার এজাহার বহির্ভূত সাংবাদিক আবুল হাসনাত মিনহাজকে ১ নাম্বার আসামী দেখিয়ে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় মূল এজাহার নামীয় আসামী আজমির শাহ’কে উক্ত প্রতিবেদনে অব্যহতি দেখানো হয়। অথচ এই প্রতিবেদনে ফরেনসিক রিপোর্টের ফলাফলের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় জব্দকৃত আলামতের কোন সত্যতা মিলেনি। এছাড়াও আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের সময় বাদীকে অবগত করেন এবং বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগে উল্লেখিত লিখিত বক্তব্যের সাথে হুবাহু মিল থাকায় তদন্তকালে পুনরায় বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন মনে করে নাই মর্মে উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ), পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো
চট্টগ্রাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি মামলার বিষয়ে মোবাইল ফোনে কোন বক্তব্য দিতে অপারগতা দেখিয়ে অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে বলেন। এদিকে মামলার বাদী মোঃ জানে আলমের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, মামলার প্রতিবেদন কিরকম দিয়েছে তিনি জানেন না, আদালতে গিয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহ করবেন বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আইসিটি মামলার তদন্ত নির্ভর করে তথ্য প্রমাণের উপরে ভিত্তি করে। কোন সাক্ষীর মৌখিক সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে কারো বিরুদ্ধে সাধারণত আইসিটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যায় না। অবশ্যই ফরেনসিক রিপোর্ট লাগবে। মামলার তদন্তকালে এজাহার নামীয় কোন আসামীর অপরাধের সত্যতা না পেয়ে বাদ দিলে, ঐ মামলায় কোন এজাহার বহির্ভূত আসামী জড়িত থাকলে তাকে সিরিয়াল অনুযায়ী এজাহার নামীয় আসামীর শেষে তদন্তেপ্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামী উল্লেখ করে মতামত জানাতে হয়। এছাড়াও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পূর্বে বাদী কিংবা অভিযোগকারীকে অবগত করতে হয়।

ষড়যন্ত্রের শিকার ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবুল হাসনাত মিনহাজ বলেন, মামলার বাদী জানে আলম দীর্ঘদিন যাবৎ নগরীর ১৭ নং রোড়ে চাঁদাবাজি করে আসছে। আমি পত্রিকায় এসব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার পর থেকে জানে আলম আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এছাড়াও আমার সাথে আইসিটির মামলার এজাহার নামীয় আসামী আজমির শাহ’র স্থানীয়ভাবে দ্বন্দ্ব চলে আসতেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাদী জানে আলম ও ১ নাম্বার আসামী আজমিরের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আমাকে কোন নোটিশ না করে এজাহারনামীয় ১ নাম্বার আসামীকে বাদ দিয়ে তার স্থলে আমার নাম বসিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তী আমার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ায় পুলিশ আমাকে খোঁজাখুঁজি করলে আমি জানতে পারি যে, উক্ত আইসিটি মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে। আমি বর্তমানে আদালতে আত্মসমর্পন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন মিথ্যা মামলার ওয়ারেন্টে পুলিশ অনৈতিক সুবিধা পেয়ে আমাকে চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকায় আদালতে যেতেও বাঁধা পেতে হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪

bangladoinik.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

https://prothomalo.com
https://prothomalo.com

এ বিভাগের আরও খবর

https://prothomalo.com
https://prothomalo.com
চেয়ারম্যান
মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক
এইচ এম হাবীব উল্লাহ
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

32/ North Mugda, Dhaka -1214, Bangladesh

01941702035, 01917142520

bangladoinik@gmail.com

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com