শনিবার ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মাধবপুরে দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের মহোৎসব!

সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ   |   সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   310 বার পঠিত

মাধবপুরে দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের মহোৎসব!

একজন আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন্দ্র সচিবের সিন্ডিকেট!

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মৌলানা আসাদ আলী ডিগ্রী কলেজের দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকল ও গনহারে একই সেট কোড পূরন করে এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গভীর উদ্বোগ প্রকাশ করছেন।

গত রবিবার (২৫ ফ্রেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার বাংলা ১ম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে চাঞ্চল্যকর রেকর্ডিং ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় বহিরাগত সারোয়ার হোসেন সেলিম নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। যিনি স্থানীয় মাধবপুর দরগাবাড়ি পৌর দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার।

সূত্র জানায়, ওই কেন্দ্রের বিগত হয়ে যাওয়া ৫টি পরীক্ষাতে এভাবে গণহারে নকল সরবরাহ ও উত্তর বলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিছু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গোপনে অবৈধভাবে নকল সরবরাহের জন্য ২৫০ টাকা করে চাঁদা গ্রহণের অভিযোগ ও রয়েছে।

ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাহারা সুলতানা ও ট্যাগ অফিসার ও তথ্য সেবা কর্মকর্তা মেরিনা নার্সিনের মদদে নকল সরবরাহের মূল হোতা কেন্দ্র সচিব সিদ্দিকুর রহমানের সহযোগিতায় বহিরাগত লোকজন কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে এমসিকিউর উত্তর ও নকল সরবরাহ করে।

কেন্দ্রসচিব সিদ্দিকুর রহমানের এক সহকারি এমসিকিউ পরীক্ষার উত্তর বলে দেয়ার একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে।

কেন্দ্রসচিব সিদ্দিকুর রহমানের সহকারি বহিরাগত শিক্ষক সারোয়ার হোসেন সেলিম এমসিকিউ পরীক্ষার উত্তর বলে দেয়ার একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকসহ অনেকের কাছে আসলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নকল সরবরাহের অভিযোগে ইউএনও নির্দেশে মাধবপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

পরীক্ষা হলে দায়িত্বরত কয়েকজন শিক্ষক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রসচিব সিদ্দিকুর রহমান এমসিকিউ পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোড ফিলাপ করান আগে থেকে আর বহিরাগত শিক্ষক ভিতরে আনিয়ে উত্তর পূরন করান।যিনি প্রতিবাদ করে তাকেই হয়রানি করেন। এসব নিয়ে মাধবপুরের ইউএনও একেএম ফয়সালের কাছে একজন শিক্ষক অভিযোগ ও জবানবন্দীও দিয়েছেন।

এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্দেশনার বিধিমালা অনুসরণ না করে মনগড়া বিতর্কিত কেন্দ্র কমিটি গঠন করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা, নকল সরবরাহের ফিস আদায় করায় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেন্দ্র সচিব সিদ্দিক ও তার সিন্ডিকেট ভয়ে মুখ খোলছেন না অনেকেই।

মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রশ্ন ফাঁস ও এমসিকিউ বলে দেওয়ার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা খেয়েছে এবং আরো তদন্তও চলছে। তবে কেন্দ্র সচিবের জড়িত থাকা বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন আমিও মনে করি।

বিষয়টির উদঘাটনকারী সাংবাদিক ভাইদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা সবাই চাই নকলমুক্ত পরিবেশ তৈরি হোক। ডিসি স্যারের নির্দেশনায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দৈনিক দেশবাংলা পত্রিকার সাংবাদিক মাসুদ লস্কর বলেন, কেন্দ্র সচিবের সহযোগিতা ছাড়া বহিরাগত শিক্ষক হলে প্রবেশ করার সুযোগ নেই। কাজেই বুঝা যায় সবকিছুর মদদদাতা কেন্দ্র সচিব নিজে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মাধবপুরের ইউএনও ও কেন্দ্রে সভাপতি একেএম ফয়সালকে একাধিক ফোন দেয়া হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল দাবী তুলেছেন, যে প্রশ্নফাসের পরীক্ষা নেওয়ায় এবং সত্যতা ইউএনও যেহেতু ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তাই পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ অথবা পরীক্ষা বাতিল করা হউক।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৫৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

bangladoinik.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

https://prothomalo.com
https://prothomalo.com

এ বিভাগের আরও খবর

https://prothomalo.com
https://prothomalo.com
চেয়ারম্যান
মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক
এইচ এম হাবীব উল্লাহ
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

32/ North Mugda, Dhaka -1214, Bangladesh

01941702035, 01917142520

bangladoinik@gmail.com

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com