রবিবার ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

চট্টগ্রামের নিত্য পণ্যের বাজারে আগুন। দিশেহারা সাধারণ মানুষ 

মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো    |   সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   407 বার পঠিত

চট্টগ্রামের নিত্য পণ্যের বাজারে আগুন। দিশেহারা সাধারণ মানুষ 

আগামীকাল থেকে শুরু হতে পারে বাহে রমজান । এ রমজান এলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিত্যপণ্যের দাম কমানো হয় একপ্রকার ঢাক ঢোল পিটিয়ে । কিন্তু আমাদের দেশে ঘটে উল্টো ঘটনা। প্রতি রাত গেলেই মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে সকালে কোন জিনিসের দাম বাড়ে। রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারের চাহিদাকে পুুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ক্রেতাদের পকেট কাটতে ব্যস্ত থাকেন। রমজানে বাড়তি মূল্যের কারণে টেনশনে আছে সীমিত আয়ের মানুষ। রমজানের অত্যাবশকীয় প্রত্যেকটি পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের বাজার গুলোতে যে যেভাবে পারে প্রতিযোগিতা দিয়ে একটা পণ্যের দাম বাড়িয়ে নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর রমজানের অত্যাবশকীয় পণ্যের মধ্যে ছোলার আমদানি ব্যয় বেড়েছে। গত বছর ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ ছোলা আসে। পুরো বাজার ভারতীয় ছোলায় সয়লাব হয়ে যায়। এছাড়া উচ্চ শুল্কের কারণে খেঁজুরের বাজার লাগামহীন। অপরদিকে চাল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও চিড়ার বাজারও বাড়তি। অপরদিকে মাছ–মাংস ও মুরগির বাজারেও একই অবস্থা। বাজারে ৫০–৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এর মধ্যে নতুন করে বাড়ছে আলুর দাম। বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা আলী আকবর নামে বেসরকারি এক চাকরিজীবী বলেন, রমজান মাসকে সংযমের মাস বলা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে এই মাসটি টাকা উপার্জনের জন্য খুবই ভালো একটি মাস। মুসলিম সম্প্রদায়ের রমজান ছাড়াও ঈদের জামা–কাপড়সহ আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। এতে এই মাসে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অন্তত রমজান মাসে হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আরো বেশি তৎপর হতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০ টাকায়। অথচ গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়। সাদা মটর কেজি ৮০ টাকা, মশুর ডালের কেজি ১৪০ টাকা, খেসারি ডালের কেজি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। গত বছর দাম ছিল ৫০ টাকা। সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৯ টাকা ও খেজুর মানভেদে ২৯০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে খেজুর পাওয়া যেত। আবার অনেকের অভিযোগ এখন নিম্নমানের খেজুরে বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে প্রায় সকল খেজুরে বিভিন্ন প্রকারের তেল ব্যবহার করে চকচকা করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। রমজান উপলক্ষে বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ পণ্যগুলোর  দাম নিয়ে সব সময় কার সাথে করে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে বাজারে মোটা সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০টা থেকে ৮৫০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। সবজি বাজারে কিছু স্বস্তি থাকলেও রমজান শুরুতে তা বেড়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম আগের চেয়ে কমেছে। তবে আমাদের দেশে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। কোনো ব্যবসায়ী তো আর লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবেন না। আর খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিমত, পাইকারদের থেকে একটা নির্দিষ্ট মুনাফায় খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনেন। বর্তমানে দোকান ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে। আমাদের অতি মুনাফা করার সুযোগ নেই।

দামের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে অক্সিজেন এলাকার এলাকার খুচরা বিক্রেতা রুবেল বলেন, আমরা পাইকারি বাজার দুয়েক বস্তা পণ্য এনে বিক্রি করি। ক্রয়মূল্যের তুলনায় কেজিতে ১–২ টাকা লাভ করে পণ্য বিক্রি করে থাকি। এখন প্রতিযোগিতামূলক বাজার কোনো খুচরা দোকানদার চাইলেও বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না। কারণ ক্রেতারা এখন বেশি সচেতন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থাপনার প্রতি পদে পদে রয়েছে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। এসব সিন্ডিকেট সরকারকেও জিম্মি করে ফেলে। যেমন খাতুনগঞ্জে প্রশাসন অভিযান চালাতে গেলে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান। এছাড়া অনেক সময় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। রমজান মাসে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি হওয়ার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এছাড়া অনেক ব্যবসায়ীর দোকান ও গুদামে গত বছরের অবিক্রিত পণ্যও রয়েছে। তিনি বলেন ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক অভিযান পরবর্তী ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং এটার কোন বাড়তি তদারকি না থাকার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটা কাজে লাগায়।

ভোক্তাদের অভিযোগ প্রতিটা দোকানে দামের তালিকা রাখা বাধ্যতামূলক করে তা প্রতিনিয়ত তদারকি করলে দ্রব্যমূলক কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে হয়। বড় বড় কিছু দোকানে মূল্য তালিকা থাকলেও মাঝারি ও ছোট দোকানগুলোতে কোন ধরনের মূল্য তালিকা না থাকাই ক্রেতারা বুঝতে পারে না কোন জিনিসের দাম কত এতে প্রতিনিয়ত ঠকে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪

bangladoinik.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

https://prothomalo.com
https://prothomalo.com

এ বিভাগের আরও খবর

https://prothomalo.com
https://prothomalo.com
চেয়ারম্যান
মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক
এইচ এম হাবীব উল্লাহ
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

32/ North Mugda, Dhaka -1214, Bangladesh

01941702035, 01917142520

bangladoinik@gmail.com

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com