কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি হু হু করে লুকালয়ে ঢুকছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫৪ সেঃমিটার( দুপর ১২টা) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৩১টি মৌজা বন্যা প্লাবিত হয়েছে।

এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তার দুকুল উপচিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। শাক সবজিসহ বিভিন্ন ফসল, গবাদিপশু ও ধান চাল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যে আব্দুল করিম ১৫০০ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পাইকডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালঝোড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ঢলডাঙ্গা ও পূর্ব ঢলডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ১ ও ২নং চর ধাউরারকুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ভরতের ছড়া ও তিলাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি প্রবেশ করেছে এবং স্কুল গুলোতে আসার রাস্তা তলিয়ে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, রবিবার ( ৭জুলাই ) দুপুর ১২টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় ২৬ সে. মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।শালঝোড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, তার বিদ্যালয়ে বারান্দা পর্যন্ত বন্যার পানি ঢুকেছে। স্কুলে আসার রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ছাত্রচাত্রীরা আসতে পারছেনা।
তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, আমার ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আজ উপজেলা প্রশাসনের সাথে কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেশ উদ্দিন সরকার জানান, ভূরুঙ্গামারীি উপজেলা ৮টি সরকারী প্রাথমিকে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম ফেরদৌস জানান, (রোববার)বন্যাকবলিত আন্ধারীঝাড়,পাইকেরছড়া, তিলাই, চরভূরুঙ্গামারী ও সোনাহাট ইউনিয়নে বন্যার্তদের মধ্যে ১১ মেঃটন চাল বিতরণ চলছে। এর আগে দেড় শতাধিক পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে আরো ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হবে।