শেরপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সাথে ত্রিমুখী ধাওয়া পাল্টা দাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

 

১৭ জুলাই বুধবার দুপুর ৩ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের নিউমার্কেট মোড় , থানা মোড় ও চক বাজারে এই সংঘর্ষ ঘটে। উক্ত সংঘর্ষে পুলিশ , সাংবাদিক কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য, দৈনিক গণমুক্তির জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান খোকন, ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুজন, জান্নাতুল মিম, রিয়া , তালহাজ্ব ও শরীফসহ বেশ কয়েকজন কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী।

জানা যায় , কোটাবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেলা ৩ ঘটিকার সময় শেরপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন।  সেখান থেকে শেরপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রদক্ষিণের সময় ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হয়। পরে কোটা বিরোধীরা শহরের থানা মোড় এবং ছাত্রলীগরা নিউমার্কেট ও পুলিশ সদস্যরা তাদের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করেন।

এ সময় আকষ্মিক ছাত্রলীগ ও কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইট পাটকেল নিক্ষেপকালে এক সাংবাদিক , কয়েকজন পুলিশসহ দুই গ্রুপের মধ্যে অন্তত ২০ জন আহত হয়। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হলে শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়ে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ পর আবার থানা মোড়ে অবস্থান করে সেখানে ডিভি পুলিশের ব্যবহৃত তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।

ফের পরিবেশ শান্ত করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।  এতে দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।  এভাবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দফায় দফায় দুই গ্রুপের মধ্যেই সংঘর্ষ চলে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শহর জুড়ে।

এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আকরামুল হোসেন পিপিএম জানান ,বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আক্রমণকারীদের হামলায় আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা খুবই গুরুতর।  এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}