অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন ফরিদা আখতার। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ বাকি ১৬ উপদেষ্টাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

ফরিদা একাধারে লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী। তার জন্ম চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার চন্দনাইশ পৌরসভার হারলা (আব্দুল বারি সওদাগর) গ্রামে। পড়াশুনা ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা জানা এবং পরিবর্তনের জন্য নীতিনির্ধারণী গবেষণা ও লেখালেখিই তার কাজের প্রধান দিক। এছাড়া নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নমূলক বিষয়ে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে পরিচালিত কার্যক্রমের মারাত্মক কুফল ও নারী স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে লেখালেখি এবং প্রতিকার আন্দোলের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপরিচিত ফরিদা আখতার। তিনি বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

বর্তমানে তিনি উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) এর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে নারী ও গাছ, কৈজুরী গ্রামের নারী ও গাছের কথা।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিনে গত সোমবার (৫ আগস্ট)
সরকার প্রধানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করার পর অন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হয়।

এরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাষ্ট্রপতিকে ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রপতিও এতে সম্মতি দেয়ায় ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}