কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর  দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল  কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিগত সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করে এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদে পাশ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে অস্থায়ী ভবনে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম শুরু এবং স্থায়ী জায়গা নির্ধারনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জাকির হোসেন জেলার নাগরিক সমাজ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সংগে কয়েকবার আলোচনা করেন। জমি নির্ধারণের সময়েও উনি কোন নেতৃত্ব এর সুপারিশ  না শুনে কুড়িগ্রামের ভিতরে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়এর উন্নয়ন সংযুক্ত সেই দিকে খেয়াল রেখে সাধারণ জনগণের পছন্দের জায়গায় স্থান নির্ধারণ করেন এবং সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে নালিয়ার দোলা নামক স্থানে প্রায় ২৫০ একর জমির উপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের সুপারিশ করে জেলা প্রশাসন।

ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া ভবনে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তুতি গ্রহন করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে সদ্য ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানে বিদায়ী আওয়ামীলীগ সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং এম পি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বার বার চাপ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম গতিশীল এবং যোগ্য প্রার্থীদের যথা সময়ে নিয়োগ প্রদানে অনড় থাকেন ভিসি জাকির হোসেন। এতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর অনেক এম পি মন্ত্রীর কাছে অপ্রিয় হয়ে যান ভিসি। এতে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের অনেকেই তার উপর নাখোশ ছিলেন বলে জানা যায়। এব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জাকির হোসেন জানান, আমি উত্তরবঙ্গের লোক এবং রংপুরে আমার জন্মস্থান।

আমি চাই আমার জন্মস্থানের পাশের জেলায় বহুল প্রতীক্ষিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি বাস্তবায়নে সব ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অনিয়ম দূর্নীতিমুক্ত পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করব। যার ফলশ্রুতিতে বিগত সরকারের অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির চাপ থাকা সত্ত্বেও আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাইনি। এছাড়াও তিনি জানান আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনে গঠিত নতুন সরকারকে তিনি স্বাগত জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং সকল সাধনার ছাত্রদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কিনা এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন কুড়িগ্রাম বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে গড়ে উঠুক। সেই চেস্টায় আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি যদিও আমাদের জনবল নিয়োগ হয়নি। আপনারা আমাদের কাজ এবং পরিকল্পনা এই বুকলেট এ দেখতে পারেন।কুড়িগ্রাম বাসী সহ বর্তমান সরকার যদি মনে করে আমার থাকার দরকার নাই,তাহলে নির্ধীদ্বায় আমি একদিনও থাকার প্রয়োজন মনে করব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে এবং এই এলাকার সন্তান হিসেবে থাকি না থাকি সবসময়ই এই প্রতিষ্ঠানটি জন্য কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}