গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একদল সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিপক্ষের হামলা, ভাঙ্চুর, লুটপাট, চাঁদা দাবীসহ অত্যাচার নির্যাতনে বাসাবাড়ি ছেড়ে মান-সম্মান ও প্রাণ বাঁচাতে নির্বাসিত জীবন-যাপনের আতঙ্কে দিন কাটতে হচ্ছে মর্মে এমন দাবী তুলেছেন উপজেলার সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট। প্রতিপক্ষগণের এমন কর্মকাণ্ডে নির্বাক এলাকার গণ্যমান্য সমাজ সচেন ব্যক্তিরাও।

মোশারফ হোসেন সুইট উপজেলার গোবিন্দী গ্রামের মৃত আঃ গনি ব্যাপারীর পুত্র। তিনি ৩নং সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের পর পর ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

ঘটনার আদ্যোপান্ত ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সরকারি অর্থায়নে “যমুনা নদীর ডানতীরের ভাঙ্গন হতে ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী ও সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী ও হলদিয়া এবং মুন্সিরহাট এলাকা রক্ষা” শীর্ষক প্রকল্পের কাজ পান ঢাকা শহরের হাসান ব্রাদার্স এবং বি জে কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বহু দূর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার মেশিনপত্র এবং লেবার মিস্ত্রিদের কাজ সঠিকভাবে তদারকির সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় তারা কাজ বাস্তবায়নে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইটকে দায়িত্ব দেন।

চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট পরিষদের কাজের ব্যস্ততার কারণে ছোটভাই সুজাউদ্দৌলা সুজাসহ স্থানীয় কতিপয় লোকজনের মাধ্যমে উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারকি করা কালে প্রতিপক্ষ উপজেলার উত্তর সাথালিয়া গ্রামের মাসুদ করিম আজাহারের পুত্র আলতামাস আহম্মেদ সোহাগ, সাঘাটা গ্রামের আহম্মেদ হোসেনের পুত্র গোলাম হোসেন, দক্ষিণসাথালিয়া গ্রামের মৃত আঃ জব্বারের পুত্র আলমগীর হোসেনগং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসতে থাকে। দাবীকৃত চাঁদা না পাওয়ার ক্ষোভে গত ২০-০৮-২০২৪ তারিখ দুপুর অনুমানিক ১২টায় প্রতিপক্ষগণ আরও পক্ষীয় লোকজনসহ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সাঘাটা উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় প্রকল্প স্থানে এসে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে কাজ বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে চাঁদা না পেয়ে ছোটভাই সুজাউদ্দৌলা সুজাসহ শ্রমিকদের মারপিট করার জন্য উদ্দ্যত হন।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট গত
২৭-০৮-২০২৪ইং তারিখে আলতামাস আহম্মেদ সোহাগসহ ১৮ জন আরও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে অভিযুক্ত করে সাঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট দাবী করেন, প্রতিপক্ষগণ অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এর জের ধরে প্রতিপক্ষগণ গত ২৭-০৭-২০২৪ ইং তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ৯/১০টার দিকে হাট ভরতখালী বাজারের সুজা নামের
জনৈক ফলব্যবসায়ীর সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পরের দিন সকাল আনুমানিক ১১টায় প্রতিপক্ষগণ দলবদ্ধ হয়ে হাতে লাঠি-সোডা নিয়ে ওই ফলব্যবসায়ীর দোকানে হামলা, ভাঙ্চুর, লুটপাটের মধ্য দিয়ে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইটসটসহ ছোটভাই সুজাউদ্দৌলা সুজার বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে।

একই সাথে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট এর অফিসসহ ৪টি দোকানঘরে হামলা, ভাঙ্চুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এতে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। ঘটনায় বাঁধা দিতে গিয়ে মারপিটে ৫/৭ জন আহত হন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর টিমসহ সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় স্থানীয় শতাধিক জনগণ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট এর বাড়িতে এসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান।

এ রিপোর্ট লেখা অবধি জানা গেছে, এ ব্যাপার ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট আবারও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}