নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব ও জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিএনপি নেতা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান শনিবার( ২১ সেপ্টেম্বর) তার ফেজবুক পোস্টে দৈনিক “প্রতিদিনের সংবাদ” নামে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকে কেন্দুয়ার সাম্প্রতিক একটি ঘটনার নিউজ প্রকাশের প্রিন্ট কপি পোস্ট করে

তিনি নিম্নে শিরোনামে একটি লেখা তার ফেজবুকে লিখেছেন। “কেন্দুয়া প্রসঙ্গ: চাঁদাবাজি,দখলবাজি,সংঘর্ষ ও আধিপত্য বিস্তারের রঙ্গমঞ্চ” শিরোনামে একটি লেখা পোস্ট করেন। এরপর তিনি আরো বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন তার ফেজবুক পোস্টের হুবুহু নিচে তুলে ধারা হয়েছে।

“কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না, মনটা ভীষণ ভারাক্রান্ত।  গত ৫ ই আগস্ট জাতির ভাগ‍্যাকাশে অমানিশার অন্ধকার কেটে নতুন ভোরের সূর্য উদিত হয়েছিল —সবাই প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছিলাম। সবাই নতুন আশায় বুক বেঁধে ছিলাম যে দেশ সংস্কারের সাথে গতানুগতিক রাজনীতিরও সংস্কার হবে এবং সাধারণ মানুষ বৈষম্যবিহীন একটি নতুন বাংলাদেশ দেখবে। কিন্তু বিধিবাম! আমাদের কেন্দুয়া যেন এর ব্যতিক্রম।  ৫ই আগস্টের পর আজ অবধি কেন্দুয়ায় নানা ঘটনা প্রবাহে একজন স্বচ্ছ রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হচ্ছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সংঘর্ষ ও গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার কতোসব কর্মকাণ্ডের রঙ্গমঞ্চ চলছে এখানে। লোকাল প্রশাসন যেন অসহায়ের ভূমিকা পালন করছে। তাহলে কি লাভ হল নতুন স্বাধীনতা অর্জন করে? কি লাভ হল শত /হাজার ছাত্র- জনতার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে? আমরা যদি দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজ আওয়ামী চরিত্রই চর্চা করি, তাহলে কি মুদ্রার এপিঠ অপিঠ হয়ে গেলাম না?

গণতন্ত্র পূর্নউদ্ধারের মহান সিপাহসালার দেশনায়ক তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ,এই ধরনের অপকর্ম বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী করলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। আমরা ১৭ বছর না খেয়ে আছি, আর কিছুদিন না খেয়েই থাকলে কি বা এমন ক্ষতি হবে? তাই বলে বাজার দখল, দোকান দখল, পরিবহন টার্মিনাল দখল, সারের ডিলারশীপ ও চালের ডিলারশীপে আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে? কিসের জন্য আধিপত্য ও কার জন্য আধিপত্য বিস্তার করতে হবে? এতো দৌরাত্ম কিসের জন্য? এইসব প্রশ্নের জবাব আমরা যারা কেন্দুয়ার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত তারাই কেবল দিতে পারি। আমরা জনসভায় বা পথসভায় গলাবাজি করি যে দলের যারা দখলবাজি, চাঁদাবাজি আর সংঘর্ষে জড়িত থাকবে তাদেরকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

তাহলে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কোন একজনকে বহিষ্কার করে নিজের কথার যথার্থতার প্রমাণ দিন তো। অন্যথায় আমাদের দল(বিএনপি) ইমেজ সংকটে পড়বে এবং ভূল বার্তা পৌঁছে যাবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায়, তাতে বিরোধী পক্ষের উদাহরণে পরিণত হব আমরা।  বিশেষ করে এইসব কর্মকাণ্ডে কেন্দুয়ার সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপি আস্থা হারাচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবে বিএনপির ব্যাপক ভোট কমে যাচ্ছে। একজন সচেতন ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিক হিসেবে এটা কারো কাম্য হতে পারে না।

বিএনপির মতন বড় দলে গ্রুপিং থাকবেই। তবে গ্রুপের প্রধানদের আরও কঠোর হতে হবে, দায়িত্বশীল হতে হবে, জনবান্ধব হতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চা করতে হবে। অচিরেই কেন্দুয়ায় এই ভয়াবহ অরাজকতা বন্ধ করতে হবে। আসুন সবাই মিলে একটি দখলমুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত এবং আধিপত্য মুক্ত শান্তির ও মানবিক কেন্দুয়া গড়ে তুলি, যা সারা বাংলাদেশে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে”।

বিএনপির এই নেতার উপর বিগত সময়ে আ.লীগের লোকজন অনেক বার হামলা চালিয়েছে। এবং অসংখ্য মামলা দিয়েছিল। তিনি অনেক বার পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং জেল খেটেছেন। তবু তিনি নেত্রকোনার জেলার কেন্দুয়া – আটপাড়ার বিএনপির নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় নির্দেশ পালন করতে পিছুপা হয়নি।

 

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}