কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। মাজরা পোকায় আক্রমনে ধান ক্ষেত মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ফলন নিয়ে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং বা পরামর্শ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের জগদল, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিন গোবিন্দপুর, মাধখলা, পানান, সিদলা ইউনিয়নের বালুয়াপুকুর পাড়, নামা সিদলা, ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। হোসেনপুর উপজেলার মাজরা পোকার আক্রমণে ফলন্ত ধান গাছগুলো মরা ও সাদাবর্ণ ধারণ করেছে। অনেক কৃষক দ্রুত ঔষধ দিয়ে তাদের ফসল কিছুটা রক্ষা পেলেও অনেকের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার পথে। দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক বোরহান মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও গোলাপ মিযা, দুলাল মিয়া,রোস্তম আলীর জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। তারা জানান, চলতি বছর প্রায় ৮ কাটা জমিতে হাইব্রিড ও ব্রি ৪৯ ধানের চারা রোপন করেছি।
অতিরিক্ত রোদ বৃষ্টির কারনে জমিতে ধান গাছের চারা তেমন ভাল হয়নি। এখন শুরু হয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। এবার যে হারে মাজরা পোকা ধরেছে, আগে কখনও এমনটা দেখা যায়নি। কৃষকরা জানান মাজরা পোকার আক্রমনে ফসল ধ্বংসের মুখে। ফলন নিয়ে চরম উৎকন্টায় রয়েছেন কৃষক। এ ব্যাপারে হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবির জানান, মাঠে আমাদের নজরদারি আছে চারা রোপনের আগে দানাদার বিষ প্রয়োগ করতে হয়। অনেক কৃষক তা করে নাই বিভিন্ন কোম্পানির বিষ আছে এগুলো জমিতে দিতে হবে।
আমাদের ইউনিয়ন ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদেরকে মনিটরিং এর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ বিষয়ে বলেন আমরা তাদের পার্চিং পদ্ধতিতে ধান ক্ষেতের পোকা দমনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমিতে কিটনাশক স্প্রে করারও পরামর্শ দিচ্ছি। এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনায়েত হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এবছর হোসেনপুর উপজেলায় ৮হাজার, চার শত ৭৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে।