ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনগরে ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা । আবহমানকাল ধরে শারদীয় দুর্গাপূজা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব। যুগ যুগ ধরে এই ধর্মীয় উৎসবটি সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভার মধ্যে ১১৪ টি পূজামন্ডপে এবার এ দুর্গা উৎসব পালিত হচ্ছে।
বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, পূজামন্ডপ গুলোতে উৎসবের আমেজ। বাহারি রঙের পোশাক ও বিভিন্ন গহনা পরিয়ে সাজানো হয়েছে প্রতিমাগুলোকে।
উপজেলার পৌর সদর কালীবাড়ি পূজা মন্ডপের দায়িত্বে থাকা ও কালীবাড়ি কমিটির সভাপতি সিতানাথ সুত্রধর বলেন, সকল ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ, মানুষের আত্মাকে সকলের প্রতি শুভেচ্ছাবোধে উদ্দীপ্ত করে, মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ ও রক্তারক্তির অবসান হয় এবং সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে-হিংসা, লোভ ও ক্রোধরুপী অসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। পূজামন্ডপের সকল আয়োজন সম্পন্ন করে ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।
নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিনয় চত্রবর্তী বলেন, নবীনগর উপজেলা ধর্মীয় সম্প্রীতির উপজেলা ।
যেকোন ধরণের অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ পূজামন্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছি। উৎসবের প্রাঙ্গনে সবাইকে নিয়ে আমাদের যে সমাবেশ তা আবহমান সৌহার্দ্যরে শাশ্বত্ব চিত্র।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর ফরহাদ শামীম বলেন,এবার উপজেলায় ১১৪টি পুজামন্ডবে পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।আমরা সর্ব্বোচ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি,সেনাবাহিনী,পুলিশ,আনছার ও উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ আমরা সকলে কাজ করছি। এদের সকল নেতৃবৃন্দদে সমন্বয়ে পরিদর্শন টিম তৈরী করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক খররাখবর জন্য কন্টোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোন অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ন করিব বলেন,আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছি, শান্তিপূর্নভাবে এবার পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ পর্যন্ত কোথায় কোন অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।