প্রায় ২ বছর আগে সোহাগের পরিবার ছিলো নিম্ন মধ্যবিত্র পরিবার। মেডিকেল গেছে ছোট একটি পানের দোকানের মাধ্যমে কোনমতে চলত তাদের সংসার, অল্প দিনেই হয়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক, গড়ে তুলেছেন গাড়ি – বাড়ি, জমা- জমি। শামীম বাবু সোহাগ লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশীরাম ( মেডিকেল মোড় ) এলাকার আমিনুর রহমান ওরফে পান আমিনুরের ছেলে।

সোহাগের গ্রামের কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শামীম বাবু সোহাগ অনলাইনে জেডবাজ, জেড-উয়িন, সহ বেশ কয়েকটি নামে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সর্গরাজ্য গড়েছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে, অন্যদিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অনলাইন ক্যাসিনো গেমের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের কোটি কোটি টাকা।

এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রায় ২ বছর আগে সোহাগের পরিবার ছিল নিম্ন মধ্যবিত্ত। কোনমতে পানের দোকানের মাধ্যমে চলত সংসার। অল্প দিনেই হয়েছেন কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল মোড়ের একজন বলেন, সোহাগকে আমরা পান আমিনুরের ছেলে বলে জানি, মেডিকেল গেটে পানের দোকানে সোহাগ নিজেও বসে, কিন্তু ইদানীং দেখতেছি সোহাগ বিভিন্ন সময় লক্ষ টাকা দামের মোটরসাইকেল চালিয়ে বেড়ায় কয়েকদিন পর পর নতুন নতুন মোটরসাইকেল ক্রয় করে, নামী দামি ব্রান্ডের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, আবার অনলাইন ক্যাসিনোর টাকা দিয়ে দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা গ্রামের কালীগঞ্জ মেডিকেল মোড় থেকে চামটাহাট গামী পাকা রাস্তার সাথে ( পাকারপুল ) এর পাশে কিনেছেন প্রায় ২০ শতাংশ জমি।

লক্ষ – লক্ষ টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করেছেন নতুন বহুতল ভবন নির্মানের জন্য। অপরদিকে সোহাগের অনলাইন ক্যাসিনোর অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত তার বোন জামাই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মাসুদ রানার মাধ্যমে সোহাগের শশুরবাড়ি তথা কালভৈরব ময়নার বাজার হতে চাপারহাটগামী পাকা রাস্তার সাথে প্রায় ১০০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। লিজ হিসাবে শশুরবাড়ি এলাকায় নিয়েছেন আরো ৭৫ শতাংশ জমি। পানের দোকানের মাধ্যমে এই অল্প সময়ে কিভাবে এত টাকা ও জীবন ব্যবস্থার উন্নতি করেছে- এই নিয়ে পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। সেই সঙ্গে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে সোহাগ ও তার পরিবার।

বিভিন্ন সুত্রে আরও জানা যায়, সোহাগ নিয়মিত পুলিশ প্রশাসনের কিছু লোককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে অবাধে তার ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন অনলাইন গেমের বিশাল সিন্ডিকেট, চাকুরী দেওয়ার নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক তরুণ যুবকদের নিয়ে গঠন করেছেন দল।

তার অধীনে কর্মরত রয়েছেন তার সহযোগী হিসেবে, উপজেলার কাশীরাম (মেডিকেল মোড়) এলাকার দলি এর পুত্র রাকিবুল ইসলাম রকিব, রনজু আহমেদ এর পুত্র মাহতিম মানিক, বনি রাজ সহ আরো অনেকেই। উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটের তরুণ সমাজকে অনলাইন গেমে আসক্ত করার মূল কারিগর সোহাগ। এই গেমের প্রভাবে অনেক ব্যক্তি ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়েছে। সোহাগের ফোনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন, এলাকায় ভালো চলাফেরা, ভালো খাওয়াদাওয়া দেখতে না পারা ব্যক্তিরাই এমন অভিযোগ করছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}