দুদিন ধরেই বেশ ভালই বৃষ্টি হচ্ছে।আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা।সকালে বেরুবার আগে স্ত্রী জিজ্ঞেস করল দুপুরে কি খাবে।বললাম খিচুড়ি।

অফিসে ফোন করে আমায় শুধায় খিচুড়ি কোন টা করব ভুনা নাকি লেটা বললাম যেটা তোমার ভাল্লাগে, সুবিধা হয় সেটাই কর।

বাসায় যখন ফিরলাম ঝুম ঝুমিয়ে অঝোর ধারায় বৃস্টি হচ্ছে।সাথে গুরুম গুরুম বাজ পড়ছে।রাস্তায় বেশ পানি জমে গেছে।খেতে বসে দেখি গরম গরম খিচুড়ি। সাথে গরুর মাংসের ঝোল আর মাছের ডিমের কোফতা সেই সাথে আমের আচার ।আহ আর কি চাই।

খিচুরি খেয়ে যখন অলস বৃষ্টিভেজা দুপুরে শুয়ে আছি ভাবলাম দেখি তো খিচুরি নিয়ে নেটে কি কি তথ্য আছে।নিলাম হাতে মুঠো ফোন গুগল মামায় সার্চ দিলাম খিচুড়ি।যা জানলাম আমার চোখ ছানাবড়া ডালে চালে মেশানো খিচুরি কেবল আমাদের এই বাংলাতেই নয় গোটা ভারত বর্ষেও ছিল জন প্রিয় একটা খাবার।সেই প্রাচীন মৌর্য আমলেও এটি রান্না হত।তখনকার গ্রীক পর্যটক মেগাস্থিনিস এর বিবরনে ও খিচুড়ির বর্ননা মেলে।

মধ্যযুগেও এটা জনপ্রিয় ছিল।বিখ্যাত পর্যটক আল বিরুনি, ইবনে বতুতার ভ্রমন বিবরনীতেও এই খাবার টার উল্লেখ মেলে।খিচুড়ি জন প্রিয় ছিল মুঘল বাদশাহ দের কাছেও।বাংলার প্রাচীন কাব্য মনসা মংগলে খিচুড়ির উল্লেখ মেলে।

দেবতা শিব তার স্ত্রী পার্বতী কে যে খাবারটি করে দিতে বলেন তা হল খিচুড়ি।আচ্ছা বৃষ্টি এলেই কেন খিচুড়ি রান্নার ধুম লাগে?? সেটার ও উত্তর মিলল।আগে গেরস্তের রান্নাঘর ছিল ঘরের বাইরে।বৃষ্টির দিনে ভাত রান্না আর সেই সাথে অন্য পদের তরকারি রান্না বান্না ছিল গৃহিনীদের জন্যে কস্টকর।কারন লাকড়ির চুলায় আগুন ধরাতে বেশ সমস্যা হত।লাকড়ি ভিজে থাকত।আবার সব কিছু ধুতেও সমস্যা।তাই তারা শর্টকাটে ডালে চালে মিলিয়ে খিচুড়ি রেধে ফেলতেন।

কেউ কেউ এতে সবজি ও দিয়ে দিতেন।হয়ে যেত সবজি খিচুড়ি।বর্ষায় প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ত।তাই খিচুড়ির সাথে ইলিশ খাবার প্রচলন হয়।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}