ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার শরীফাবাদ স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে ও বখাটেকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা খানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলাকারীকে থানায় নিয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, রবিবার (৩ নভেম্বর) ৭ম শ্রেণির ক্লাস চলাকালে সময় ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির তার পাশে বসা শিক্ষার্থীদের জামা ধরে টানাটানি করছিল। বিষয়টি আবিরের পাশে বসা শিক্ষার্থীরা শ্রেণি শিক্ষককে জানায়। শিক্ষক আনোয়ার হোসেন আবিরকে এ সব করতে নিষেধ করেন। এরপরও আবির একই ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছিল।

এ সময় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থী আবিরকে বেত দিয়ে শাসন করেন। এ ঘটনার পরের দিন  সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগ মুহূর্তে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক কক্ষে বসেছিলেন। হঠাৎ আবিরের বড় ভাই ইমন (১৮) শিক্ষক মিলনায়তনে প্রবেশ করে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে একের পর এক কিল ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় শিক্ষকরা তাকে নিবৃত্ত করে।

শিক্ষক মিলনায়তনে হট্টগোল শুনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক মিলনায়তন ঘিরে ফেলে। বখাটে ইমনকে তাদের (শিক্ষার্থীদের) হাতে তুলে দেওয়ার দাবী করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ইমনকে শিক্ষক মিলনায়তনে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। এর পরও শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে।পুলিশ, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে পুলিশ ইমনকে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসে। হামলাকারী আবির ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সোমবার আমার স্কুলে ক্লাস শুরুর আগ মুহূর্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হামলাকারী বখাটের বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় হামলাকারী ঐ ছেলেটিকে শিক্ষার্থীদের গণরোষের হাত থেকে বাঁচাতে শিক্ষকরা তাদের কক্ষে আটকে রাখে। আমি ভাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানাই। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে হামলাকারীকে থানায় নিয়ে আসে।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের শেখ বলেন, শরীফাবাদ স্কুল এন্ড কলেজে এক শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা ও  শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। হামলার অভিযোগে ১ জনকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে আসে। তাকে আটক রাখা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}