গত কুরবানী ঈদের পর দিন গেছিলাম এলিফ্যান্ট রোড আমার এক আত্মিয়ের বাসায়।দুপুরে খাবার পর ইচ্ছে করল যাই আজিমপুরে কবরস্তানে যাই।কারন উনাদের বাসা থেকে আজিমপুরে কবরস্তান খুব বেশি দূর না।এখানে আমার মা খালামনি, মামা,দাদী, বড় চাচা,চাচী, মামী সহ অনেক আত্মিয় শুয়ে আছে।অনেকের কবর এখন নেই, ( এখানে ১৮ মাসের বেশি কোন কবর রাখা হয়না।নতুন কবর পড়ে যায়)।

তারপরেও লোকেশন মনে করে করে সেখানে গিয়ে গিয়ে দুয়া করলাম।এরপর কবরস্তানের উত্তর দিকের গেট দিয়ে বেরিয়ে ছেলে কে নিয়ে রিকশা নিয়ে ইডেন কলেজ, ঢাকেশ্বরি মন্দির, সলিমুল্লাহ মুসলিম এতীম খানা হয়ে এলাম লালবাগ কেল্লায়।ফাকা রাস্তায় রিকশা চড়ে ছেলে খুব মজা পেল। কেল্লার কাউন্টারে বিশাল লম্বা লাইন দেখে টিকিট করে ভেতরে না যেয়ে সামনের রাস্তা ধরে হাটা শুরু করলাম এই এলাকাটা এক্সপ্লোর করার জন্যে।হাটতে হাটতেই আতশ খানা রোডের উপরেই দেখা মিলল এই মসজিদ টার।

অনেক টাই দিল্লির জামা মসজিদের মত ভুমি থেকে বেশি উচুতে নির্মিত এই মসজিদ।লালবাগের কেল্লার সাথে এর নির্মান শৈলীর মিল দেখে অনুমান করলাম এটির নির্মান কাল ও অই কেল্লার সমসাময়িক হতে পারে। এর লাল রঙ এর সাথে মিল আছে আগ্রা ফোর্ট,লাল কিল্লা, নাখোদা মসজিদ এবং ষাট গম্বুজ মসজিদের। পরে নেট থেকে যা জানা গেল

এই মসজিদের নাম খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ।নির্মানকাল ১৭০৬ খৃ আওরংজেবের প্রপৌত্র ততকালিন নায়েবে নাজিম ফরুরখ শিয়ারের নির্দেশে।এটি ছিল মসজিদ কাম মাদ্রাসা।এর জায়গা অনেক বড় হলেও মুল মসজিদ টি আয়তনে অত বড় নয়।জুম্মা বা ইদের নামাজের সময় এখানে মুসল্লিদের ভিড় একদম রাস্তা অবধি চলে যায়।এটি নির্মানের পর আর বর্ধিত করা হয়নি।তবে এর সমুখে দুটি সুন্দর বাগিচা রয়েছে।

বর্তমানে এটি দেখভাল এর দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ প্রত্ন তাত্বিক অধিদপ্তর।আমরা লালবাগ রোড ধরে হাটতে হাটতে আবারো আজিম্ পুর কবস্তানের দক্ষিন গেটে চলে এলাম। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে এলিফ্যানট রোড।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}