নেত্রকোণা জেলার হাওর অধ্যুষিত জনপদ মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেলো কয়েকশো বছরের পুরনো একটি মাজার।
স্থানীয়দের ভয়েস সেভেনকে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী মাজারটি বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ৩৬০ জন প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারকদের (যাদেরকে স্থানীয়রা ওলী-আউলিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেন) একজন হযরত শাহ তুজা (র:) এঁর বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: সোলায়মান বারী ফরিদ বেগ যিনি বংশানুক্রমিকভাবে মাজারটির খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ভয়েস সেভেনকে জানান, আনুমানিক ১৫২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে একসময়ের মোমেনশাহী জেলার পূর্বপ্রান্ত এবং সুরমা নদীর পশ্চিম তীরে অন্তর্গত গাগলাজুর এলাকায় এসে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন হযরত শাহ তুজা (রহঃ)। তাঁর বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণায় একসময়ের হিন্দু অধ্যুষিত গাগলাজুর এলাকার বাসিন্দারা ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে উঠেন। আনুমানিক ১৫৯০ থেকে ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তিনি মৃত্যুবরন করেন।
কথিত আছে, ১৯১০ থেকে ১৯২০ সালের দিকে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারি আমিনরা এখানে খাজনা নিতে আসলে অলৌকিক বিভিন্ন ঘটনার মুখোমুখি হন। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ শাসনাধীন গাগলাজুরের জমিদারের নায়েবরা তাঁর মাজারের ভূমির কোন খাঁজনা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর মাজার ও আশেপাশের প্রায় ৬ একর ভূমি কোন ধরনের খাজনা বা ভুমিকরের আওতামুক্ত।
মাজারটিতে প্রায় দেড়শো বছর যাবত বাৎসরিক উরস অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে হযরত শাহ তুজা (রহ) এঁর অনুসারীরা বছরে একবার অন্তত সেখানে মিলিত হন।
মাজারটির দায়িত্বে থাকা মাজার কমিটির একজন ভয়েস সেভেনকে জানান, মাজারটির সংরক্ষণ ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।