ঘন কুয়াশার চাদর জড়িয়ে যেন আসে শীতের মনোরম সন্ধ্যা……. দূরের আকাশের গায়ে

হয়তো দেখিবে তাহারে এক শীতবিকেলে ।
কোমল কুসুম রঙে, জলে ছায়া ফেলে
ধীরে ধীরে কুমারী সন্ধ্যার আয়োজন নিয়ে আসে
ধরিত্রীর কোলে …….।

উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতল প্রকৃতি যেন তার ভিন্ন এক রূপ নিয়ে হাজির। ভোর থেকে কুয়াশায় আচ্ছন্ন গোটা জেলা, তাপমাত্রা অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে। এই ঠান্ডায় সকালে দেখা মিলছেনা সূর্যের। কেবল ধূসর মেঘ আর কুয়াশার মাখামাখি। কুয়াশা ভেদ করে হেড লাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় ছুটছে বাস, ট্রাকসহ ছোট-বড় যানবাহন।

তবে এখন পর্যন্ত গ্রাম-শহর-জনপদে শীতের দাপুটে মেজাজ তেমন দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু মাঠে-ঘাটে-পথে কুয়াশার মলিন আঁচল ভাসতে দেখা যাচ্ছে ছোট হয়ে আসা দিনের সকাল-সন্ধ্যায়। কখনো কখনো এই কুয়াশার হালকা স্তর গভীর ও ধূমায়িত হয়ে আচ্ছন্ন করে তুলছে চারপাশ।

এর পাশাপাশি রাতভর ঝরে পড়া শিশিরে ভিজে উঠছে ঘাস, লতাপাতা, ঘরের ছাউনি, রিক্ত মাঠ। ঘাসের ডগায়, পাতার কিনারে, ফুল-ফসল আর মাকড়শার জালে জমে থাকা স্বচ্ছ শিশিরবিন্দুতে ভোরের সোনালি রোদের স্পর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে মনোহর দ্যুতি; যেন তা মুক্তোদানা কিংবা হীরার কুচি।

এ সময়ে সকালে চায়ের দোকানে ভিড় জমছে। গরম ভাপা পিঠা, চিতই পিঠার সঙ্গে খেজুর গুড় যেন শীতের সকালকে আরো মনোমুগ্ধ করে তুলছে। শিশুরা গায়ে মোটা সোয়েটার চাপিয়ে খেলাধুলায় মেতে উঠছে, আর বৃদ্ধরা আগুন পোহানোর জন্য আড্ডায় মাতোয়ারা।

শীতার্থ মানুষের করুন আকুতি, শীতের এই আবহাওয়া একদিকে যেমন চমৎকার অনুভূতি নিয়ে আসে, তেমনই কষ্ট নিয়ে আসে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে। তাই সামর্থ্যবানদের উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

শীতের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা, আর গাইবান্ধার অনন্য রূপ সব মিলিয়ে শীত যেন সৃষ্টি করেছে এক অন্যরকম অনুভূতির জগৎ।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}