খোলা বাজারের চেয়ে দাম কম, অটো রাইস মিল চালু, হাসকিং চাতাল ব্যবসা বন্ধ, খাদ্যগুদামে অনিয়মসহ নানা কারণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান ঝুলে গেছে। এ ক্ষেত্রে অটো রাইস মিলই এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা।

চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের জন্য একটি আটা মিলসহ ৩৫টি হাসকিং চাতালের সঙ্গে খাদ্যগুদামের চুক্তি হয়। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে থাকলেও, ৫২ দিনে এক কেজি ধানও সংগ্রহ হয়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়, যা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকবে। উপজেলার সুন্দরগঞ্জ ও বামনডাঙ্গা খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২৩ টন এবং ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১ মাজার ৬৮৯ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাল সংগ্রহ হয়েছে ২৭০ টন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এক কেজি ধানও সংগ্রাহ হয়নি। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে চালের কেজি ৪৭ টাকা এবং ধান ৩৩ টাকা।

উপজেলা চাতাল মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদৎ হোসেন আনন্দ বলেন, সরকারিভাবে অটো রাইস মিল মালিকদের বরাদ্ধ দেওয়া হচ্ছে। এতে হাসকিং চাতাল ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বরাদ্দ না পাওয়ায় দিন দিন ব্যাংকে ঋণের পরিমাণ বাড়ায় অনেক চাতাল ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান খোলা বাজারের প্রতি কেজি ধান ৩৭ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারি রেট ৩৩ টাকা। সাধারণ কৃষক, খুচরা ব্যবসায়ী এবং চাতাল মালিকরা লোকসান করে তো খাদ্যগুদামে ধান দিলেন না।

উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের হক এ নাজমা চালকলের মালিক শামসুল হক জানান, পাঁচ বছর ধরে তিনি কোনো বরাদ্দ পান না। ব্যবসা না থাকায় ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি চাতাল বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকারের লোকজনের সঙ্গে অটো রাইস মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে সব বরাদ্দ নিয়ে নিচ্ছেন। এতে হাসকিং চাতাল মালিকরা বরাদ্দ পাচ্ছেন না। এ ছাড়া সরকারি রেট খোলা বাজারের চেয়ে কম। সে কারণে ধান সংগ্রহ
হচ্ছে না।

নুরু হক সরকার নামে অপর এক চাতাল মালিক বলেন, খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা অটো রাইস মিল মালিকদের বরাদ্দ দিয়ে দেন। এতে হাসকিং চাতাল মালিকরা ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ধান ও চালের বিল করতে গিয়ে ডিসি ফুড অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা খাদ্যগুদামে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুন্দরগঞ্জ শাখার সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার আব্দুল আলী জানিয়েছেন, চাতাল মালিকরা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকে ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না। এই অর্থ ফেরত দিতে তাদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাবিবুর রহমান বলেন, সরকায় কৃষকদের মাধ্যমে ধান নেওয়ার কথা বললেও কৃমকরা যথা নিয়মে খাদ্যগুদামে ধান দিতে পারেন না। সে কারণে অটো মিলের মাধ্যমে চাল ও ধান সংগ্রহ করতে হচ্ছে। উপজেলার ১২০টি চাতালের মধ্যে এখন ৮৫টি বন্ধ আছে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}