চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাত-দিন ফসলী জমি ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে মাটি খেকোরা। প্রশাসনের নজরে থাকলেও মাটি খেকো চক্রের সদস্যদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় না আনায় দিনের পর দিন কৃষি জমির টপসয়েল কাটার পাশাপাশি পাহাড় কেটে সমতল করে দিচ্ছে চক্রের সদস্যরা।

সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া থানা পুলিশ এর নাম ভাঙ্গিয়ে নুর আমিন প্রকাশ মোটা আমিন ও নুর নামে দুই ব্যাক্তি ট্রাকপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। আর এই টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা থানার নামে ৫শ টাকা সাংবাদিকদের নামে অবশিষ্ট ৫শ টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। একাধিকাবার এই বিষয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের লোকজন জড়িত থাকায় এই মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। স্থানীয়রা এই মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানালে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিখার হচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

পটিয়া থানার ওসি এই অপরাধের দায় নিতে না চাইলেও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান অকোপটে শিকার করেন মহামারী আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে এই মাটি কাটা।

সরেজমীন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হাইদগাঁও মল্লপাড়া গ্রাম, সাতগাঊছিয়া দরবার সংলগ্ন পাহাড়, উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের গৈড়লা গ্রাম, খরনা ইউনিয়ন, কচুয়াই শ্রীমাই, কেলিশহরের গুচ্ছ গ্রাম, কিল্লা পাড়া, ছত্তরপেটুয়া এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে রাতের আঁধারে কৃষি জমির টপসয়েল ও পাহাড় কেটে সমতল করে দিচ্ছেন মাটি খেকোরা।

এছাড়া কেউ বাধা দিতে আসলে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা, মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয়ভীতিও প্রদর্শণ করার অভিযোগও আছে। স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুম আসলেই বেপরোয়া হয়ে উঠে মাটি খেকোরা। কৃষি জমির ক্ষতিসাধন করে পরিবেশেরে ভারসাম্য নষ্ট করলেও প্রশাসন কার্যকরী ভূমিকা না রাখায় তাদের দমানো যায়না। তারা জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তৎকালীন হুইপ সামশুল হকের ভাই নবাবের আগ্রাসন চলে আসছিল। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর পুনরায় একটি গ্রুপ এই কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। এবিষয়ে চক্রের অন্যতম এক সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, মোটা আমিন, টোকেন নুরু ও এক সাংবাদিককে ম্যানেজ করে আমরা এ মাটি খাটতেছি।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, জমিতে ভালো ফসল উৎপাদনের উপযোগী হলো উপরিভাগের মাটি। ওই মাটি প্রতিনিয়ত কেটে ফেলার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অপর দিকে পাহাড় কেটে সমতল করে দেওয়ার ফলে পরিবেশেরও চরম বিপর্যয় হচ্ছে। জমির উপরিভাগের মাটি একবার কেটে নিয়ে গেলে তা পূরণ হতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগে।

মানবাধিকার ও পরিবেশ আইনজীবী জাফর হায়দার বলেন, ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইনে টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ আইনে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হযেছে। চট্টগ্রাম পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নেতা সাংবাদিক আলিউর রহমান বলেন, ‘কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলায় এর উর্বরতা হারিয়ে যায়। অন্যদিকে পাহাড় কেটে সমতল করে দেওয়ার ফলে পাহাড়ি গাছ কমে যাওয়ায় জলবায়ুর উপর চরম প্রভাব পড়ছে।

এই বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী ফারহানুর রহমান জানান, পটিয়ায় মাটি কাটার চরম প্রবনতা লক্ষ্য করছি। যেখানে যেখানে মাটি কাটার খবর পেয়েছি সেখানে অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করেছি।
তিনি জানান, মাটি কাটার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি পটিয়াকে বলেছি। এখনো যদি কোথাও কৃষি জমি ও পাহাড় কাটার খবর পাই আমরা অভিযান পরিচালনা করব।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}