আজ পুরো দুনিয়া পরিবেশগত সংকটে ভুগছে।জলবায়ু পরিবর্তন, বন নিধন,প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় আমাদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে।ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থা। এতে রয়েছে আমাদের জন্য দিকনির্দেশনা। পরিবেশের সুরক্ষা ও মানবজাতির দায়িত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে আল কুরআন ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদিসে।ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের যত যা কিছুই রয়েছে সব মহান রব্বুল আলামীন তৈরী করেছেন।

তো এইসব রক্ষা করা সব মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। সুরা আল আ’রাফের ৩১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন ” নিশ্চয় তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” এখানে আল্লাহ তায়ালা আমাদের অপচয় করতে নিষেধ করেছেন।আমরা যদি পানি থেকে শুরু করে খাবার দাবার অপচয় বন্ধ করি তাহলে আমরা শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয় বরং আমরা আমাদের চারিত্রিক পরিশুদ্ধিকেও উন্নীত করতে পারবো।

আবু হুরায়রা রা: এর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন “জনৈক ব্যক্তি একটি কুকুরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পেয়ে তার মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া হতে পানি এনে দিতে লাগল যতক্ষণ না সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ্‌ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।” (সহিহ বুখারী,হাদিসের মান সহিহ) এভাবেই যদি আমরা বন উজার না করি তাহলে পশু পাখিরা তাদের আবাসভূমি হারাবে না।

তাই আমাদের উচিৎ গাছ লাগানো। বনাঞ্চল থাকলে আমাদের বিশ্বের প্রাণীবৈচিত্র সংরক্ষণ হবে এবং পরিবেশ দূষণ আমরা রোধ করতে পারবো। সূরা বাকারাহ এর ১১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন ” তোমরা যমীনে ফাসাদ করো না “।এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে যদি আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ না করি তাহলে আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ পাবো না।

মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা।গাছ লাগানো,পানি সঞ্চয় করা,প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যাবহার করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত যাতে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে পারি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}