গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি ও আবসর প্রাপ্ত কর্নেল ডা. আব্দুল কাদের খাঁন (৭৩) মারা গেছেন। ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর ভাগিনা গাইবান্ধার একটি বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় ফাঁসির আসামি ছিলেন কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খাঁন। গত বছরের ৯ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ কারাগারে ব্রেন স্ট্রোক করলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৩ অক্টোবর আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারি তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি মারা যান। কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খাঁন মৃত্যুকালে স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান রেখে যান। তারা দুজনই চিকিৎসক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল কাদের খাঁন একজন রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ডাক্তার ছিলেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ৯ম জাতীয় সংসদের জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন
আব্দুল কাদের খাঁন ১৯৫২ সালের ৩১ মার্চ গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ছাপরহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
কাদের খাঁন সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও ডাক্তার ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যও ছিলেন।
এদিকে, দশম জাতীয় সংসদের আওয়ামীলীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে বন্দুক ধারীর হাতে নিহত হলে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে কাদের খাঁনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলায় তাকে পৃথক দুটি ধারায় সাজা দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একটিতে যাবজ্জীবন ও অপরটিতে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৯ সালের ১১ জুন দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেছেন আদালতের বিচারক। একই বছরের ২৮ নভেম্বর এমপি লিটন হত্যা মামলার রায়ে কাদের খাঁনসহ ৭জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।