প্রবাসে একই রুমে বসবাস করতেন নয়ন মিয়া(৩৫) ও মো. মুছা(৪০)। সেই সুবাদে মুছার স্ত্রী সোনিয়ার(৩৫) সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে নয়ন মিয়ার। সময়ের প্রবাহে সখ্যতা রূপান্তরিত হয় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে। দীর্ঘ ৭বছর প্রবাস জীবনে পরিবারের সাথে তেমন সম্পর্ক রাখেনি নয়ন মিয়া। ভরণপোষণ দেয়নি নিজের স্ত্রী-সন্তানের। তরুণ ছেলে ও স্ত্রীকে অবগত না করে একপর্যায়ে দেশে ফিরে দীর্ঘদিন সোনিয়ার সাথে পরকীয়া সম্পর্কে বসবাস করেন নয়ন মিয়া। সোনিয়ার স্বামী মুছা দেশে ফিরে আসায় পরকীয়া প্রেমিকা স্বামীর নিকট ফিরে যায়। নয়ন তাকে নিজের কাছে ফেরাতে তাদের বাড়িতে যায়।
সোনিয়া ও তার স্বামী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুই মরতে পারস না’। সেই কষ্ট সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেন নয়ন মিয়া। এমনটাই দাবী করেন নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার(৩২) ও তার পরিবার। নিহত প্রেমিক নয়ন মিয়া কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের কবির মিয়ার পুত্র। গত বৃহষ্পতিবার রাত ১১ টায় নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ ত্রিশ গ্রামে পরকীয়া প্রেমিকার বসত বাড়িতে তিনি বিষপান করেন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে তার স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকা সোনিয়া ও তার স্বামী মো. মুছার বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নিহতের প্রেমিকা সোনিয়া ও তার স্বামী মুছা উভয়ে পলাতক রয়েছে। নিহতের লাশ তার বাড়ি বাঙ্গরা বাজার থানার সোনারামপুর গ্রামে নিয়ে গেলে সেখানে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনা দায়ে (৩০৬) ধারা মোতাবেক পরকীয়া প্রেমিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। আসামীরা পলাতক। তাদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}