যশোরের মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ভবদহের নাব্যতা না থাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারনে এ অঞ্চলে বোরো চাষ করতে পারছেনা সাধারণ কৃষকেরা। যার ফলে হতাশা আর দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে হাজার হাজার কৃষকসহ নিন্ম ও মধ্যবিত্ত শ্রেনিপেশার মানুষ।

কৃষক আব্দুল মজিদ গাজী বলেন এখনো অনেকের উঠানে পানি আর বিলের মৎস্য ঘেরে ভেড়িবাঁধের উপর হাটু পানি বা কোথাও কোমর পানি এই শুকনো মৌসুমী এতো পানি কেন জানতে চাইলে বলেন আমাদের বিল সহ ভবদহ এলাকার সকল বিলের পানি নিস্কাসনের জন্য ভবদহের সুইচগেট, আমডাঙ্গার খাল ও ডায়ের খাল নামক সুইস গেট গিয়ে পানি নিস্কাসন হয়ে থাকে কিন্তু ভবদহের শ্রীনদী, হরিনদীসহ সকল নদনদীতে পলি পড়ে তলদেশ ভরাট হওয়ায় বিলের পানি গেট দিয়ে নদীতে প্রবাহিত হতে পারেনা।সরকারী উদ্দোগে নদী সংস্কারের কাজ শুরু হলেও গেইট দিয়ে যে পরিমান পানি নিস্কাশন হচ্ছে তাতে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে কোনো বিলের পানি নিস্কাশন হবেনা।

একদিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারনে মৎসঘেরের মাছ চাষে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি অন্যদিকে এখনো পর্যান্ত মৎস্য ঘেরে কেউ জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারছে না। তার উপর বোরো আবাদও হচ্ছেনা। এই দুই মিলে ভবদহ অঞ্চলের কৃষকসহ সাধারন মানুষের দুঃখ দুর্দশার শেষ নেই। একদিকে জলাবদ্ধতার কারনে কোনো কাজ নেই অন্যদিকে ঘরে খাবার , ওষধপত্র, পশুখাদ্যসহ সকলকিছু কেনাকাটা করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা দুরুহ হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসির জোর দাবি ভবদহ সুইচগেট উঠায়েদিয়ে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত মজবুত ভেড়িবাঁধ নির্মানকরে প্রতি বিলের সাথে সুইচগেট করতে হবে। এবং নদী খনন করে ভবদহ নদীকে নওয়াপাড়া ভৈরব নদীর সাথে সংযোগ করে দিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে কিছুদিন এ অঞ্চলের কৃষকসহ সাধারন জনগন স্বাভাবিক জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখছে। বিল কেদারিয়া সেচ কমিটির সদস্য মন্জুরুল হাসান জানান ভবদহের দক্ষিন পার্শ্বে বিগত তিনমাস যাবৎ মাত্র তিনটি লংভুম মেশিন দিয়ে নদীর খনন কাজের কাজ শুরু করে তাতে আজ পর্যন্ত ভালো কোনো সমাধান আসেনি, আমি শুনেছি আরো তিনটি লংভুম আসবে কিন্তু আজও আসেনি।

এলাকাবাসি ও সাধারন জনগন ভবদহের স্থায়ী সমাধানের জন্য উর্দ্ধতন মহল, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের আশু সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}