রিলেশনে জড়াবার আগেই কথা গুলো ভাবুন।জীবনে চলার পথে কাউকে মনে ধরে যেতেই পারে। তাকে দেখলে আপনার হার্টবিট বেড়ে যায়।নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।তাকে না দেখলে মন যেন কেমন করে কিন্তু তাকে “” ভালোবাসি” বলার আগে কিংবা তার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর আগে আপনার চাহিদা, চাওয়া-পাওয়া এবং আপনার মেন্টালিটির সাথে তার মেন্টালিটি ম্যাচ করে যায় কিনা দেখে নিন। যদি এসবের মধ্যে পার্থক্য হয়, তবে ভুলেও আর এগিয়ে যাওয়ার দরকার নেই।এতে দুজনেরই মঙ্গল।

আজ হয়তো আবেগ কাজ করছে আর বিবেক ঘুমাচ্ছে বলে সম্পর্কে জড়িয়ে গেলেন তবে একটা সময় গিয়ে এই মেন্টালিটি এবং চাওয়া-পাওয়ার গড়মিলের ব্যাপারটাই দু’জনকেই চরম অশান্তিতে রাখবে। মনের বনিবনার একটা ব্যাপার আছে। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষ সম্পর্কে জড়ায় কিংবা কাউকে ভালোবাসে তার ভেতর থাকা কোনো এক হাহাকার বা অভাববোধ থেকে। আর সেই অভাববোধ যদি আপনার অভাববোধের সাথে মিলে না যায়, তবে সেই সম্পর্কে দু’জনের একজনেও ভালো থাকতে পারবেন না। পরস্পরকে দোষারোপ এবং মনমালিন্য হয়ে সেই সম্পর্কে চিড় ধরবেই।এতে কোন সন্দেহ নাই।

সম্পর্কে নিজেকে এবং নিজের কথাকে সবসময় ক্লিয়ার রাখুন। আগে জেনে নিন, একটা মানুষ কেন আপনাকে ভালোবাসে এবং সম্পর্কে জড়াতে চায়। পৃথিবীতে কোনো মানুষই কাউকে অকারণে ভালোবাসে না। যদি মনে হয়, তার ইচ্ছে এবং আকাঙ্খার সাথে আপনার ইচ্ছে, আকাঙ্খা পুরোপুরি মিলে যায়, তবেই দুজনে মিলে এগিয়ে নিয়ে যান সম্পর্কটাকে।সেটাকে একটা যৌক্তিক পরিণতি দেবার চেস্টা করুন।দুজন দুজনের জীবনের দায়িত্ব নিন।

মেন্টালিটি বলতে একটা ব্যাপার আছে। আর সেটার যদি গড়মিল হয়, তবে সারাজীবন সেটা নিয়ে ভুগতে হবে! প্রত্যেকটা মানুষের চাওয়া-পাওয়ার মাঝে তফাত থাকেই। তবে অভাববোধ, যেটা আপনার প্রয়োজন, সেটার সঙ্গে কিছু মানুষের সাথে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মনে রাখবেন, আপনার চাওয়া-পাওয়া, অভাববোধ থেকে সম্পর্ক কিংবা কারো ভালোবাসা পাওয়ার যে চাহিদা তৈরি হয়, সেটাই যদি পূরণ না হয়, তবে সারাজীবন একাকিত্ব বয়ে বেড়ানো ভালো। একা থাকুন, তবুও কেউ থাকার পরেও নিজেকে অসহায় মনে হবে না। কেউ থাকার পরেও যদি আপনার হৃদয়ে অসীম হাহাকার থেকেই যায়, তবে সেই কেউ একজন থাকার প্রয়োজনটা কোথায়?বলুন তো।এক সময় যাকে মনে হত তাহাকে ছাড়া বাঁচিবো না। তাকে পেতে নিজের রক্তীয় সম্পর্কের আত্মিয়দের ও ছেড়ে যেত্র রাজি ছিলেন সেই বাংলা সিনেমার গানের মত

ঘর ছেড়েছি দুজনে
শুধু প্রেমের ই কারণে
বাচতে হলে দুজন বাঁচব এক সাথে
মরতে হলে দুজন মরব এক সাথে
আর ফিরব না না ফিরবো না কোন পিছু টানে।

আর এখন মনে হয় তাকে ছাড়তে পারলেই বাঁচি। এই যে একটা মানসিক অবস্থা সেটা যেন না হয় এ জন্যেই লেখাটা। তারপরেও জানি এই লেখা পড়লেও অনেকেই এই লেখার বিষয় কে সিরিয়াস লি নেবেনা।কারন ভ্যালেন্টাইন আর বসন্তের ভালোবাসার মাতাল হাওয়ার জোয়ারে আবেগ কাজ করবে আর বিবেক নাক ডেকে ঘুমুবে।

লেখক চিকিতসক বারডেম এবং
হিলিং হার্ট সার্টিফাইড মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর
লাইফ স্প্রিং সার্টিফাইড মেন্টাল হেলথ এম্বাসেডর।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}