ঠান্ডা ও গরম প্রতিরোধে বেশ আরামদায়ক পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক নির্মাণে নোকাল নুড়ী পাথর, পাথরের ধুলো, নদীর তলদেশ থেকে নেয়া মোটা বালু, সিমেন্ট ও কখনো ফ্লাই অ্যাশ বা অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে নেত্রকোণার আটপাড়ায় তৈরি হচ্ছে ইটের বিকল্প পরিবেশ বান্ধব কংক্রিট ব্লক। যা দিয়ে সরকারি, বে-সরকারি, অফিস-আদালত সহ ব্যাক্তি মালিকানায় বহুতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, সারা দেশেই প্রচুর পাকা দালান নির্মিত হচ্ছে। সার্বিক সুবিধা বিবেচনায় মানুষ এখন কাঠ, টিনের ঘরের বদলে ইট, সিমেন্টের ঘর বানাচ্ছে। ফলে বেড়ে গেছে ইটের চাহিদা।

সাধারণত জমির উপরিভাগের মাটি পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করার কারণে পরিবেশের নানামুখী ক্ষতি হচ্ছে। আবাদী জমির পরিমাণ অপ্রতুল হচ্ছে। ইটভাটায় পোড়ানো বিষাক্ত ধোঁয়া দূষিত করছে বাতাস এবং হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। তাই বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনিস্টিটিউট (এইচবিআরআই) দীর্ঘ গবেষণায় ইটের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যয় সাশ্রয়ী কংক্রিট ব্লক তৈরি পদ্ধতি নিয়ে এসেছে। যা সাধারণ ইটের চেয়ে গুণগত মানে ভালো এবং দাম কম পড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সম্প্রতি সালে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া এলাকায় শাহ সুলতান ইকো ব্লক নামের প্রতিষ্টানটি ইটের বিকল্প পরিবেশ বান্ধব বিশেষ ধরণের কংক্রিট ব্লক তৈরি কার্যক্রম শুরু করেন।

সেখানে বিভিন্ন নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নানান রকমের কংক্রিট ব্লক তৈরি করে মাঠ জুড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এসব কংক্রিট ব্লক ব্যবহারে বিল্ডিং নির্মাণের ব্যয় কম সাধারণ ইটের চেয়ে ৪০ প্রায় ভাগ পর্যন্ত। এগুলো পরিবেশবান্ধব, মূল্যসাশ্রয়ী, ওজনে হালকা, ভূমিকম্প, আগুন ও লবণাক্ততা প্রতিরোধী, অতি উষ্ণ বা অতিশীতল আবহাওয়ার বিপরীতে নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ দেয়। শাহ সুলতান ইকো ব্লক এর ম্যানেজিং পার্টনার মোঃ ইয়াকুব আলী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি ভিশন বাস্তবায়নে সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ সালে ১০%, ২১ সালে ২০%, ২২ সালে ৩০%, ২৩ সালে ৫০%, ২৪ সালে ৮০%, ২৫ সালে ১০০% বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা ঠিকমত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বর্তমান আমাদের কোম্পানিতে প্রতি মাসে ব্লক উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক আছে।

ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা উৎপাদন বাড়াচ্ছি। আমাদের পরিবেশ বান্ধব ব্লক দিয়ে এলাকায় সরকারী ও বে-সরকারী অফিস-আদালত, দোকান-পাট সহ বসত বাড়িও তৈরি করা হয়েছে। নেত্রকোণা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্মাণ কাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। আমাদের বেশ কিছু সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। তাই সরকারি নির্দেশনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে পরিবেশ বান্ধব কংক্রিট হলো ব্লক ব্যবহার বাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}