গত ২৮-০২-২৫ তারিখ আনুমানিক বেলা ১২:৩০ দিকে রাজধানী লালবাগ থানাধীন শহীদ নগর বালুর মাঠ দুই যুবক নিজ কর্মস্থল অবস্থায় পরিকল্পিত হামলায় গুরুতর আহত হয় মো: হিমেল আহমেদ (২৫) এবং মো: বাপ্পা রাজ (৩০)। ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী উপস্থিত হলে দ্রুত পালিয়ে যায় আহতকারীরা, বর্তমান হিমেল আহমেদ এবং বাপ্পা রাজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, পারিবারিক সূত্রে জানা যায় তাদের হামলাকারীরা হলেন তাদেরই ফুফাতো ভাই ১) মোঃ বাবু রাঢ়ী (৩৫) ২) মোঃ রাসেল রাঢ়ী (৩০) ৩) মীর হোসেন রাঢ়ী (৪০) ৪) নাসির ছৈয়াল (৪৫) ৫) জাহাঙ্গীর ছৈয়াল (৪০) এবং ৬) মনির ছৈয়াল (৪৮)।

এই বিষয় ভুক্তভোগী বাবা মো: খলিল ছৈয়াল (৫৪) বাদী হয়ে লালবাগ থানাধীন একটি মামলা করেছেন মামলার স্মারক রেকর্ড নং:১২৯০/১৬

এজাহারে বলা হয়েছে,

বর্ণিত ১ নং সাক্ষী আমার ছেলে ও ২ নং সাক্ষী আমার ভাতিজা। আমি ও দুই নং সাক্ষী যৌথভাবে দীর্ঘদিন বালুর মাঠ রোড অক্সাইট কারখানা পরিচালনা করে আসছি। বর্ণিত বিবাদীদের সাথে আমার ছেলে ও দুই নং সাক্ষীর পূর্ব থেকে দেনা পাওনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ২৮/০২/২৫ খ্রিঃ দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকায় সময় আমার ছেলে ও এক নং সাক্ষী তার চাচাতো ভাই ২ নং সাক্ষীর সাথে কাজ করতে ঘটনাস্থলে গেলে বর্ণিত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা বেআইনি জনতাবদ্ধে আমাদের কারখানায় অল অনধিকার প্রবেশ পূর্বক ১ নং ও ২ নং সাক্ষী কে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এই সময় ১ নং সাক্ষী তাদেরকে গালমন্দ করতে নিষেধ করলে বর্ণিত বিবাদী সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা ৪,৫ ও ৬ নং বিবাদীর হুকুমে তাদের হাতে থাকা লোহার রড, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ১ নং ও ২ নং সাক্ষী কে এলোপাথাড়ি ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরে বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে।

তখন ২ নং বিবাদী ১ নং সাক্ষী কে হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ১ নং সাক্ষী তার হাত দিয়ে ফেরাতে গেলে ১ নং সাক্ষীর ডান হাতের কব্জির উপরে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা যখন করে, তখন ১ নং বিবাদী তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে ২ নং সাক্ষী কে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে উক্ত কোপ ২ নং সাক্ষীর মাথার উপরিভাগে লেগে কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়,যাহাতে ১৬ টি সেলাই লাগে ১ নং বিবাদী ২ নং সাক্ষীর মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুনরায় ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ২ নং সাক্ষীর মাথা বরাবর কোপ মারলে উক্ত কোপ দুই নং সাক্ষীর কপালের বাম পাশে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় যাতে ৮ টা সেলাই লাগে। এক পর্যায় বর্ণিত ৩ নং বিবাদী ১ ও ২ নং সাক্ষী কে এলোপাথাড়ি পিটাইয়া শরীলের বিভিন্ন স্থানে থেতলানো জখম করে।

১ নং সাক্ষীর হাতে থাকা ০৬ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি ও গলায় থাকা ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণের চেইন চাহার মূল্য- ২,৫০,০০০ (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ২ নং বিবাদী কারখানার টেবিলের উপরে থাকা কালো রঙের সাইট হ্যান্ড ব্যাগে রক্ষিত নগদ ৩,৫০,০০০/- ( তিন লক্ষ ৫০ হাজার) টাকা চুরি করে নিয়ে যায় বর্ণিত ১ ও ২ সাক্ষীদ্বয়ের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগায়া আসলে বর্ণিত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা তাদেরকে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এই সময় ৩ নং সাক্ষী সহ আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ১ নং ও ২ নং সাক্ষীদ্বয়কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদেরকে চিকিৎসা প্রদান করে, চিকিৎসা শেষ করে ও উপরোক্ত ঘটনার বিষয় আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে লিখিত এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো।

এই বিষয় নিয়ে লালবাগ থানায় ওসি জানান,
বিষয়টি সাথে আমি অবগত আছি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারি অভিযান চলছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}