কলমবাজদের সুমহান সৃষ্টি,
দোষ চাপিয়ে কলঙ্কিত করে নিষ্ঠুর দৃষ্টি।
পদাচারণে, পথিমধ্যে ফেলে দূরদৃষ্টির দ্বিতল বিভাজন,
বার্তার ভেলকিতে করে ভস্মীভূত জীবন-মন।

পারিতোষিক পায় যে বাক্য বাণের ভোগান্তির শিস,
সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে মিথ্যা যোগানের সম্মিলিত বিষ।
মন্ত্রণালয়ের দূত,
লাপাত্তা হয়ে,
পেয়ে যায় রাজহংসের স্বর্ণখচিত মুকুট।

কলমবাজদের লিকলিকে লুকোচুরির –
লোমহর্ষক লোলুপ শতমুখীর শতাংশ,
সংকীর্ণচিত্তে অনুতাপের ইচ্ছে নেই যার কিয়দংশ।

স্বহস্তে সন্ধ্যাতারা,
সিদ্ধিলাভ করবে কেমন তারা?
স্বর্ণভূমির ঝলমলে বেড়ায় কেবল ভ্রান্তি ধরা!

কলমের শত কোটি জোর—
পারে কিন্তু ঠেকাতে,
ক্ষমতার জিঞ্জিরে ঘেরা,
তাড়িত বার্তায়, তাণ্ডবলীলায় গড়া,
তুলতুলে মসনদের প্রোথিত শক্ত দ্বারের মোড়।

থৈ থৈ!
ষড়যন্ত্রের পাল্লা বয়ে যাবে অথৈ,
কলমবাজদের সাথে দরকষাকষির
ঝড় উঠবে শীঘ্রই।
করো নামঞ্জুর!
হইও না ভয়ে, দাপটে বিহ্বল, ভঙ্গুর।

ধরো নিঃশঙ্ক নিশানের বিশ্বস্ত বাতাবরণ,
যা কভু করবে না কোনো রূপ শ্রেষ্ঠত্বের  বিমোচন,
এমন নির্ভীক আস্থাভাজন,
তেজস্বীরাই করবে সমাজের সংশোধন।

থাকিলে সত্যপথে, বাহাসের অসীম পাহাড়,
জুটিবে না কিন্তু সেথায়
দু-মুঠো আহার।

জিন্দানখানার উদ্ধত শির,
কদাকার দরবারের অসীম ঐ প্রাচীর,
নীল দরিয়ার গহীনে,
হাতবেড়ির ধ্বনি বাজে নিভৃত নির্জনে।

কবিতা: কলমবাজি
লেখক: জামাল হোসেন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}