গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াত জামায়াত কর্মী নাজমুস সাকিব হত্যার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়নি। একাধিক বার মামলা দায়েরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে তা আটকে গেছে বার বার। এই নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত কর্মী এই প্রতিবেদককে জানান, “এই একই রকম ঘটনায় আওয়ামীলীগের কোনো কর্মী মারা গেলে তারা কি জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকতো?” এই ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রশিবিরের এক নেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, “রাজনীতি করতে গিয়ে অন্যায় ভাবে আমাদের হত্যা করা হবে অথচ আমরা নিহত হলে আমাদের পরিবার বিচার পাবে না তা হতে পারে না।

বিচার পাওয়া না পাওয়া তো পরের কথা এখন পর্যন্ত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে একটা মামলা পর্যন্ত করা হলো না!” অনেকেরই ধারণা ভোটের রাজনীতিতে রক্তের কোনো মূল্য নেই। ভোটের কথা বিবেচনা করেই এখন পর্যন্ত মামলা করা হয়নি বলে অনেকেই মনে করছেন। এই ব্যাপারে শহীদ নাজমুস সাকিবের পিতা জাহিদুল হক বুলু বলেন, “সাকিব আমার পরিবারের বড় সন্তান ছিলো। তাকে ছাড়া আজ ১১ টি বছর অতিক্রম করছি। মামলা করার জন্য আমি একাধিক বার থানায় গিয়েছি কিন্তু মামলা গ্রহণ করা হয়নি।” এখন মামলা দায়েরের পুরো বিষয়টিকে তিনি জামায়াতের দায়িত্বশীলদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মামলার ব্যাপারে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,”শহীদ নাজমুস সাকিব হত্যা মামলাটি দায়েরের ব্যাপারে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যে কোনো সময় মামলাটি দায়ের করা হবে ইনশাআল্লাহ “। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১১ ই জানুয়ারী নাজমুস সাকিব শাহাদাত বরণ করেন। এর আগের দিন স্বৈরাচার হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন চলাকালে পলাশবাড়ীতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় রংপুরের একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হলে সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারী সকালে পলাশবাড়ীর বাঁশকাটা নামক জায়গায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাকিবের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেন এলাকাবাসী।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}