এবারের বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগ ও সেবাদান দ্বারা, সম্ভব হবে যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়া ” প্রতিবছর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ২৪শে মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে থাকে, তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ” প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগ ও সেবাদান দ্বারা, সম্ভব হবে যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়া ” সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক ২৪ মার্চ/২০২৫ রোজ সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে ‘বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২৫’ উদযাপন করা হয়। বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ত্বে এবং সহযোগী সংস্থা ব্র্যাক এর সমন্বয়ে একটি স্ট্যান্ডিং র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া, সিভিল সার্জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রতন কুমার ঢালী, ডাঃ মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, সহকারী পরিচালক, ডাঃ মাহমুদুল হাসান, ডাঃ এ এফ এম আশরাফুর রহমান, মেডিকেল অফিসার, ডাঃ মফিজুর রহমান, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সার্ভেইল্যান্স মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, ডাঃ মোঃ আকতার হোসেন, সিনিয়ার কনসালটেন্ট (শিশু), মোঃ রায়হান উদ্দিন ভুঁইয়া, আবাসিক ফিজিসিয়ান, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ডাঃ অনল চন্দ্র দাস, জুনিয়র কনসালটেন্ট, যক্ষ্মা ক্লিনিক।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন মিঠু রঞ্জন সরকার, জেলা ব্যবস্থাপক, ব্র্যাক, বিভাষ কিশোর দাস, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার ডিজিস কন্ট্রোল (এমওডিসি), আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও), যক্ষ্মা ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ এর প্রতিনিধি। উক্ত আলোচনা সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন ডাঃ মফিজুর রহমান, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ডিএসএমও, এছাড়া বক্তারা যক্ষ্মার লক্ষণ, রোগ নির্ণয়, প্রতিকার, ডটস পদ্ধতি, যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করেন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যক্ষ্মা রোগের অবস্থা, যক্ষ্মা কর্মসূচীর কার্যক্রম, এমডিআর রোগীর চিকিৎসা ও উন্নত প্রযুক্তিতে জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

সভাপতি মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে চলছে। তিনি ভবিষৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য চলমান কার্যক্রম আরো জোরদার করার পাশাপাশি যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (টিপিটি) গ্্রহন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন, তিনি বলেন শিশুরাও বয়স্কদের পাশাপাশি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তাই শিশুদের মধ্যে আক্রান্তদের খুঁজে বের করে তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। অনুষ্ঠানে গত বছরের যক্ষ্মা কর্মসূচির অবস্থা ও তার ফলাফল আলোচনা করা হয়।

গত বছর সম্ভাব্য যক্ষ্মা (প্রিজাম্পটিভ) রোগীর সংখ্যা ৬৬১৯১, কফ পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণুযুক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৪৩০ জন এবং মোট যক্ষ্মা রোগী সনাক্তের সংখ্যা ৬০১৫ জন বলে জানানো হয়। যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে চলমান যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে আরো বেগবান করার আহবান জানানো হয়। রোগ নির্মূলে সরকারী, বেসরকারী সকল পর্যায়ে একযোগে কাজ করলে এই র্কমসূচীকে আরো বেগবানকরা সম্ভব হবে। তবেই আমাদের দেশও সমাজ থেকে যক্ষা নির্মূল করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}