চিকিৎসকের তোপের মুখে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক এম কে আই কাইয়ুুম চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়ে এ পদে অধ্যাপক ডাঃ মির্জাা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল’কে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)।

জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ মুহাম্মদ ইব্রাহিম এর তিল তিল করে গড়ে তোলা বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘বারডেম জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ’সহ বিশে^র দারবারে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উক্ত প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু দিন ধরে উচ্চপদস্ত কর্মকর্তাদের দুনীর্তি নিয়ে স্টাফদের মাঝে খুব অসন্তুষ দেখা দিচ্ছে। যারপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সাবেক মহাপরিচালক এবং একজন পরিচালক’কে অপসারনের দাবী জানিয়ে আসছেন।

উক্ত দাবীর মুখে সাবেক মহাপরিচালক এবং একজন পরিচালক ছুটি ভোগ করছিলেন। সাবেক মহাপরিচালক ৩২ দিন ছুটি কাটিয়ে আজকে রোববার (২০-৪-২৫) বহিরাগত কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং নিজের রুমে বসেন। তখন চিকিৎসক’সহ কর্মকর্তাগণ এর বিরোধিতা করেন। সেই সাথে সাথে স্টাফগণ কয়েকটি দাবী উত্তাপন করে সোমবার থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। অধ্যাপক এম কে আই কাইয়ুুম চৌধুরী’কে আজকের (২০-৪-২৫) মধ্যেই সম্পূর্ণ রূপে বহিষ্কার বা পদত্যাগ করার দাবী জানান। অন্যথা বারডেম হাসপাতালের সকল ধরনের কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার (২১-৪-২৫) সকাল থেকে কয়েকটি বিভাগ ব্যতিত বর্হি:বিভাগও বন্ধ থাকবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি’র পরিচালনা পর্ষদ তাৎক্ষণিক বৈঠকে বসেন এবং কাইয়ুম চৌধুরীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অধ্যাপক ডা. মির্জা মাহবুবুল ফয়সালকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) অধ্যাপক এম কে আই কাইয়ুুম চৌধুরী’কে ২০২০ সালে ৯ম মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। আজ রোববার (২০ এপ্রিল) বাডাস এর মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত নোটিসে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যারপ্রেক্ষিতে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ১০ম নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মির্জা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল।

অধ্যাপক ডা. মির্জা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল ইউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ডায়ালাইসিস এন্ড কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন পদে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়, নিষ্ঠা এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বারডেমের স্টাফদের ভাষ্য মতে, উনার ন্যায়, নিষ্ঠা এবং সততার মূল্যায়ন হিসেবেই বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) তাঁকে এই পদে বসিয়েছেন। সেই সাথে এ কথা সবাই বলে ফিরছেন, তিনি যোগ্য পিতার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে এই পদে বসেছেন। এখানে উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডা. মির্জা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল অধ্যাপক ডাঃ মির্জা মাজহারুল ইসলাম এর সুযোগ্য সন্তান।

মির্জা মাজহারুল ইসলাম ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারী টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার আগচারান গ্রাামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে বাংলাদেশের একজন অধ্যাপক, শল্যচিকিৎসক ও ভাষাসৈনিক। বলা চলে প্রায় ছয় দশক ধরে শৈল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ১৯৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৮ সালে ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আহতদের পাশে চিকিৎসকের ভূমিকা ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য।

মির্জা মাজহারুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৫২ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। উচ্চতর অধ্যয়নের উদ্দেশে ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্য যান। মির্জা মাজহারুল ইসলাম প্রফেসর অব সার্জারি ও প্রিন্সিপাল হিসেবে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৭৬), প্রফেসর অব সার্জারি হিসেব ঢাকা মেডিকেল কলেজ (১৯৮০) এবং ১৯৮৫ সালে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর পর তিনি জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপদেষ্টা হিসেবে কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনারসের ২০ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা মাজহারুল ইসলাম ১৯৯৩ সাল থেকে বারডেম সার্জারি বিভাগে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। তিনি বারডেম এর ২য় (১৯-০৭-১৯৯৩ থেকে ০৪-০২-১৯৯৭) এবং ৫ম (০১-১১-২০০৫ থেকে ১৯-০৬-২০০৬) মহাপরিচালক হিসেবে অর্থাৎ দুইবার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।বারডেম জেনারেল হাসপাতাল এর উচ্চপদস্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর বক্তব্য এভাবেই তুলে ধরছেন, অধ্যাপক ডাঃ মির্জা মাজহারুল ইসলাম স্যারের মত যোগ্য মানুষের সুযোগ্য সুন্তান মহৎ মানুষ জাতায়ী অধ্যাপক ডাঃ মুহাম্মদ ইব্রাহিম এর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা সবাই আনন্দিত।

স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হওয়ার সাথে সাথে মহাপরিচালকের দপ্তরে গিয়ে চিকিৎসক উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. মির্জা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল’কে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে স্বাগমত জানান। স্বল্প সময় মতবিনিময় করেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}